|

`হরতাল প্রত্যাখানে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি জোরালো হয়েছে`
18 Feb 2013 07:19:03 PM Monday BdST
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
চট্টগ্রাম: জামায়াত ইসলামীর ডাকা হরতালে চট্টগ্রামবাসী সাড়া না দেয়ায় উৎফুল্ল হয়েছেন চট্টগ্রামের তরুণ সমাজ।
তরুণদের মতে, হরতাল প্রত্যাখান হওয়ায় দেশজুড়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে যে গণআন্দোলন চলছে তা আরও শক্ত ভিত্তি পেয়েছে। একইসঙ্গে জামায়াত ইসলামীকে নিষিদ্ধের দাবিও জোরালো হয়েছে।
সোমবার জামায়াত ইসলামীর ডাকা হরতালে নগরীর জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক ছিল। নগরীতে অধিকাংশ যানবাহন চলাচল করেছে। দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও খুলেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও খোলা ছিল।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়কারী ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগের আহবায়ক শরিফ চৌহান বাংলানিউজকে বলেন, `জামায়াত-শিবির হরতাল ডেকে স্বভাবসুলভ চোরের মত মিছিল করেছে, টায়ার পুড়িয়ে, ককটেল ফাটিয়ে আতংক সৃষ্টি করেছে। তারা যদি আতংক সৃষ্টি না করত, তাহলে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, সোমবার চট্টগ্রাম শহরে একটি গাড়িও রাস্তায় বের না হয়ে থাকত না।`
তিনি বলেন, `হরতালের মধ্যে হাতেগানা কিছু দোকানপাট বন্ধ ছিল। স্কুলগুলোতে উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। জামায়াত যদি ত্রাসের পথ থেকে সরে এসে শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনের আহ্বান জানাত তাহলে নগরীতে একটি দোকানও বন্ধ থাকত না। আর আগামী দিনে হরতাল হলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও আর ঘরে বসে থাকবেনা।`
গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা ও চট্টগ্রাম অনলাইন একটিভিস্টি ফোরামের সদস্য সুমিত চৌধুরীর মতে, তরুণরা দেশজুড়ে গণজাগরণ সৃষ্টি করায় সাধারণ জনগণ জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শক্তি পেয়েছে। নৈতিকতার বলে বলীয়ান হয়েছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ কারণে হরতাল ডেকেও মাঠে নামতে পারেনি জামায়াত-শিবির।
সুমিত চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, `আমরা খবর পেয়েছি, বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ও সাধারণ জনগণ মিলে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস প্রতিহত করেছে। সাধারণ মানুষের এ ভূমিকা তরুণদের অনুপ্রাণিত করছে। আশা করি জনগণের স্বত:স্ফূর্ত প্রতিরোধের মুখে জামায়াত-শিবির আর কখনও মাথা তুলে দাঁড়াবার সাহস করবেনা।`
গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা ও খেলাঘর সংগঠক রুবেল দাশ প্রিন্স বলেন, `গণজারগরণের ফলে মানুষ এখন আর জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসকে ভয় করছেনা। মানুষ প্রতিরোধ করতে শিখেছে। সোমবারের হরতালে যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল সেগুলো আগামীতে জামায়াত হরতাল সেগুলো আর বন্ধ থাকবেনা।`
তিনি বলেন, `জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে যে প্রবল নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে, এ মনোভাব ধারণ করে সরকারের উচিৎ হবে এ দু`টি সন্ত্রাসী সংগঠন অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা।`
রোববার চট্টগ্রামের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে চট্টগ্রামে জামায়াত ইসলামীর হরতাল প্রত্যাখানের জন্য চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে জামায়াত ইসলামীর হরতাল প্রতিহত করারও ঘোষণা দেয়া হয়।
হরতাল প্রত্যাখান করে সোমবার সকাল ১০টা থেকে চট্টগ্রামের গণজাগরণ মঞ্চে অবস্থান কর্মসূচী শুরু হয়। হরতালে সাড়া না দেয়ায় চট্টগ্রামবাসীকে গণজাগরণ মঞ্চ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়।
এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দেয়া রায় প্রত্যাখান করে নগরীতে মানববন্ধন ও মিছিল করে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগ। চট্টগ্রামের ব্লগার ও অনলাইন একটিভিস্ট ফোরামও এ কর্মসূচীতে সংহতি প্রকাশ করে।
পরদিন সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগ এবং ব্লগার ও অনলাইন একটিভিস্ট ফোরাম মিলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে গণঅবস্থান কর্মসূচী শুরু করে। এ কর্মসূচী এখন সার্বজনীন রূপ পেয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯১৭ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৩ আরডিজি/টিসি
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক)
corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
|
|