|

আবার পড়ুন ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদার নিবন্ধ
03 Feb 2013 04:41:49 PM Sunday BdST
নিউজ ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা: বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন টাইমস পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে “ZIA: The thankless role in saving democracy in Bangladesh : Corruption and stealing threaten a once-vibrant nation” শিরোনামে বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার লেখা একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।
আলেকজান্ডার হান্টার কর্তৃক কিছুটা পরিমার্জিত প্রবন্ধটিতে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের দলীয় অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন কামনা করেন খালেদা জিয়া।
৩০ জানুয়ারি লেখাটি ওয়াশিংটন টাইমসে প্রকাশের পরপরই ব্যাপক আলোড়ন তোলে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পাঠক মহলে। এমনকি লেখাটি ওয়াশিংটন টাইমসের সর্বাধিক পঠিত তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে এছাড়া অনেকেই নিজেদের মতামত ও প্রতিক্রিয়াও পোস্ট করছেন ওয়াশিংটন টাইমসের মন্তব্য বিভাগে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাভাষী পাঠকদের কথা চিন্তা করে লেখাটির বাংলা অনুবাদ কিছুটা সংক্ষেপিত আকারে প্রকাশ করা হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলানিউজটোয়েন্টিফোরে-
২০১৩ সালে কী বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সন্ধিক্ষণে পৌঁছাবে? মিয়ানমার ও ভারতের মাঝে অবস্থিত ১৫ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত আমার এ দেশ, স্বাধীনতা অর্জন করে ১৯৭১ সালে। তখন থেকেই স্বাধীন দেশ হিসেবে আমাদের গন্তব্যের প্রতি পথিকৃত রাষ্টৃ্ হিসেবে দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত কয়েক বছরে যেখানে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের গতিপথ অধঃপতনের দিকে ধাবিত এবং এর অর্থনৈতিক মিত্রতা অন্য বিশ্বশক্তিগুলোর দিকে প্রবাহিত, তখন কিছুই না করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অবলোকনের জন্য হয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে একদিন দোষারোপ করা হলেও হতে পারে।
দু’দেশের সম্পর্ক এ সময় বেশ খানিকটা টানাপোড়েন চললেও, একথা বলা যাবে না যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, কংগ্রেস বা তাদের এজেন্সিগুলো কিছুই করেনি। ছয় মাস আগেই দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দকৃত দুইশ’ কোটি ডলারের তহবিল বাতিল করেছে বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি ও তহবিল আত্মসাতের বিষয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ বিষয়ক কংগ্রেসনাল ককাস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুসকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিন্দা জানিয়েছে ।
গ্রামীণ ব্যাংকও ওই আন্তর্জাতিক পুরস্কার বিজয়ী ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান, লক্ষ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক, কিন্তু ড. ইউনুসকে বিতারণের কারণ কী?
বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ভুল ব্যক্তিকে পুরস্কার (নোবেল) দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ‘বাংলাদেশের যদি কেউ নোবেল পুরস্কারের জন্য উপযুক্ত হন, তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
যদিও বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণ এ ধারণার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে।
শুধু প্রশ্ন করে দেখুন ওই ৩শ’ পরিবারের কাছে, ২০০৯ সালের পর থেকে হাসিনার ৠাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন( পুলিশের একটি আধাসামরিক শাখা) বাহিনীর হাতে যাদের স্বজন নিঁখোজ হয়েছেন।
বিবেচনা করুন খুন হওয়া শ্রমিক অধিকার নেতা আমিনুল ইসলামের পরিবারের কথা, যার হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা বাতিলের দাবি করছে এএফএল-সিআইও (আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার অ্যান্ড কংগ্রেস অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল অরগানাইজেশন) ।
এছাড়া একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত অরাজকতার বিচারের জন্য গঠিত স্থানীয় একটি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং তাদের সমর্থকদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে অভিযুক্ত করাও শেখ হাসিনার নোবেল পুরস্কারের দাবির যথার্থতার বিরুদ্ধে একটি বড় প্রশ্ন।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক দূতও শুধুমাত্র বিরোধী দলকে লক্ষ্য করে ওই আদালতের কার্যক্রম চালানোর কারণে শেখ হাসিনা সরকারের নিন্দা জানিয়েছেন।
গত ডিসেম্বর মাসে দি ইকোনোমিস্টে ফাঁস হওয়া ইমেইল ও ফোন রেকর্ডিংও বর্ণনা দেয় বিচারের নামে শেখ হাসিনা প্রশাসনের দুষ্কর্মের বিবরণ, কীভাবে এই ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহারের মাধ্যমে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মৃতুদণ্ড প্রদান করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে সরকার।
এশিয়ার সবচেয়ে গতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রতে পরিণত হওয়ার পরিবর্তে, বাংলাদেশ গত গত ৫ বছরে কীভাবে শুধু একটি পরিবারের ক্ষমতার চাবিকাঠি কুক্ষিগত হওয়ার প্রক্রিয়ার দিকে ধাবিত হচ্ছে, এখন সেটিই দৃশ্যমান।
আর এখন, নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে, সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অপসারণের চেষ্টা করছেন শেখ হাসিনা। যদিও তিনি নিজেই এই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে সমর্থন দিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মুক্ত একটি নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য একটি নিরপেক্ষ ও অরাজনৈতিক সরকার গঠনের ধারণার ওপর ভিত্তি করেই গঠিত হয়েছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এমন একটি নিশ্চয়তা, যার মাধ্যমে নির্বাচন হবে অবাধ ও নিরপেক্ষ। এছাড়া ভোটাররা নতুন সরকারের পক্ষে রায় দিলে অবশ্যই ক্ষমতার হাতবদল হবে, তারও নিশ্চয়তা দেয় এ ব্যবস্থা।
এ পরিস্থিতিতে সাধারণ নির্বাচনের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের শেখ হাসিনার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে লাখ লাখ মানুষ। কিন্তু এসব সত্ত্বেও শেখ হাসিনাকে নিজের ইচ্ছা সামনের দিকে এগিয়ে নিতেই আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।
তার বিশ্বাস নিজের বিরুদ্ধে জনগণের শক্তিশালী মনোভাব থাকা সত্ত্বেও হয়তো এভাবেই তিনি আবারও নির্বাচিত হবেন।
লক্ষণীয় যে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাম্প্রতিক সফরের পর দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের প্রতিবেশী বার্মাও (মিয়ানমার)। পাশাপাশি বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতও তার অগ্রযাত্রা বজায় রেখেছে।
এখন যদি একটি মাত্র পরিবার বাংলাদেশের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে তবে তা পুরো অঞ্চলের জন্যই একটি বড় ধরণের ছন্দপতন। একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই বাংলাদেশের জনগণ ব্যালট বক্সের মাধ্যমে তাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটানোর সুযোগ পাবে।
এ পরিস্থিতিতে এদেশের জনগণের মনোভাবের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষে নিজেদের সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বিশেষ করে ব্রিটেনের নিজের প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা আছে।
গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশের বিচ্যুতি রোধ করার লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অবশ্যই তাদের আওয়াজ ও তৎপরতা হতে হবে আরও লক্ষণীয়। পাশাপাশি কংগ্রেস এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে অবশ্যই ড. ইউনুসের মত ব্যক্তিদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে।
তাদের অবশ্যই শেখ হাসিনার কাছে ব্যাখ্যা চাইতে হবে এবং তাকে জানিয়ে দিতে হবে, যারা শ্রমিক অধিকার সমর্থন করেন ও প্রধানমন্ত্রীর বিপরীত রাজনৈতিক মতবাদ বিশ্বাস করেন তাদের বাক স্বাধীনতা হরণ করলে বাণিজ্য খাতে অগ্রাধিকারের যে সুবিধা আছে তা বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে শাসকদের ওই সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের ভ্রমণ ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত, যারা গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘণ করছে।
তাদের এসব পদক্ষপকে হতে হবে অবশ্যই শক্তিশালী ও দৃশ্যমান, যেন আমাদের জনগণ তা অবলোকন করতে পারে। এর মাধ্যমেই সারাবিশ্বকে গণতান্ত্রয়নের পক্ষে নিজের মিশন অব্যাহত রাখার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র।
সবোর্চচ্ আদালতের থেকেও বড় আদালত হচ্ছে মানুষের বিবেক। এ মুহূর্তে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ন্যায় বিচার এবং দারিদ্র্য দুরীকরণ শেখ হাসিনার অধীনে নিরাপদ, সুস্থ বিবেকে এটা বলা অসম্ভব।
বস্তুত বাংলাদেশ এখন মারাত্মক সন্ধিক্ষণে।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও সারা বিশ্বের কোনো কিছু করার এখনই উপযুক্ত সময়।
লেখক: বেগম খালেদা জিয়া, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা।
অনুবাদ: রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর
বাংলাদেশ সময়: ১৬২৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩১, ২০১৩ আরআর
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক)
corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
|
|