|

বন রক্ষায় ‘বনখেকো’র অঙ্গীকার
19 Feb 2013 11:16:52 AM Tuesday BdST
নিউজ ডেস্ক বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা: প্রাকৃতিক বন ধ্বংস ঠেকাতে জোরালো ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ কাগজ ও টিস্যু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এশিয়া পাল্প অ্যান্ড পেপার গ্রুপ (এপিপি)।
ইন্দোনেশিয়ার চিরহরিত অঞ্চলের বন উজাড়ের জন্য এশিয়ার এই শীর্ষ কাগজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটিকে অভিযুক্ত করা হলেও এর কর্ণধাররা বলছেন, এখন কেবল বাগান (কাঠ সরবরাহের জন্য নির্ধারিত) থেকে সরবরাহকৃত কাঠই কাগজ উৎপাদনে ব্যবহার করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটির এ উদ্যোগকে আশঙ্কা প্রকাশ করেও স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। শীর্ষ পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস বলছে, “এপিপি তাদের অঙ্গীকার পূরণ করলে সেটা বনরক্ষায় একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।”
দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় লড়াইরত দেশের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া অন্যতম। দেশটির চিরহরিত অঞ্চলের প্রাকৃতিক বন উজাড় ঠেকাতে আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো চাপ দিয়ে আসছে দেশটির সরকারকে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রধান বন উজাড়কারী হিসেবে অভিযুক্ত জাকার্তাভিত্তিক এপিপি গত ১ ফেব্রুয়ারি একটি পরিবেশবান্ধব চুক্তিতে অনুমোদন দিয়ে বলেছে, চোরাইপথে সরবরাহকৃত প্রাকৃতিক বনের কাঠ ব্যবহার করা হবে না। পরিবেশ রক্ষায় এপিপি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশ্রয়দাতা বনাঞ্চল উজাড় করা হবে না এমন অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ইন্দোনেশিয়ার স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এপিপির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাইদা গ্রীনবারি বলেন, “প্রতিষ্ঠানের কাজে শুধু বাগান (নির্ধারিত) থেকেই কাঠ সংগ্রহ করা হবে।”
এপিপি গ্রুপের চেয়ারম্যান তেগুহ গান্দা উইজয়া বলেন, “কোম্পানির ব্যবসায়িক কাজে স্থিতিশীলতার জন্য পথ পরিবর্তন করা হয়েছে।”
উইজয়া বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় এটা আমাদের সেরা অঙ্গীকার এবং এপিপির পক্ষ থেকে বিনিয়োগ।” ব্যবসায়িক স্বার্থ ও সামাজিক লাভের কথা চিন্তা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন উইজয়া।
এর আগে, সম্প্রতি রেইনফরেস্ট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (আরএএন) নামের একটি সংগঠন- শিশুদের বই প্রাকৃতিক বনের কাঠের কাগজে ছাপা হয়েছে- এমন অভিযোগ এনে এপিপির সঙ্গে ব্যবসা না করতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহবান জানায়।
এপিপির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আরএএন’র এশিয়া শাখার পরিচালক ল্যাফকাদিও কোর্তেসি এক বিবৃতিতে বলেন, “যদিও আমরা এপিপির এই অঙ্গীকারকে স্বাগত জানাচ্ছি, কিন্তু এখানে প্রতিষ্ঠানটি দ্বারা অনেক অঙ্গীকার ভঙ্গে এবং প্রাকৃতিক ও মানবিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ গোপন রয়েছে।”
তিনি বলেন, তাদের (এপিপি) সাম্প্রতিক অঙ্গীকার পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বশীল বলা যাচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, দেশটির দ্বীপপুঞ্জ ও চিরহরিত অঞ্চলে পামওয়েল প্রতিষ্ঠানের প্রসার ঘটাতে উদ্বেগজনক হারে বন উজাড় করা হচ্ছে। এত দ্রুত বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণেই জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে।
যদিও এর আগে, আন্তর্জাতিক চাপের প্রেক্ষিতে ২০১১ সালে বন রক্ষার একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। কিন্তু সে চুক্তি বরাবরই ভঙ্গ হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বছর আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিসের পক্ষ থেকে বলা হয়, বার্বি ডলসহ বিভিন্ন প্যাকেজ ইন্দোনেশিয়ার প্রাকৃতিক বন থেকে আসছে বলে তাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
খেলনা তৈরিতে উপাদান যোগাতে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাটেল ইঞ্চ ও ওয়াল্ট ডিজনির মতো প্রখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বন উজাড়ে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়।
পরিবেশবাদী সংগঠন ফরেস্ট ট্রাস্ট এর সহযোগী এপিপি বলেছে, “এপিপির এ নতুন লড়াই পরিবেশ আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।”
বাংলাদেশ সময়: ১১০৬ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৩ সম্পাদনা: হুসাইন আজাদ, নিউজরুম এডিটর-eic@banglanews24.com; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর
মিডিয়া হাউজ, প্লট#৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক#ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ
নিউজরুম মোবাইল ফোন: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯, ০১৭২৯০৭৭৩৩০, ০১৭২৯০৭৬৯৫৪
ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১-২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, news@banglanews24.com (সেন্ট্রালডেস্ক)
corr.bn24@gmail.com (কান্ট্রিডেস্ক), editor@banglanews24.com (এডিটর-ইন-চিফ)
বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন একটি ইডব্লিউএমজিএল প্রতিষ্ঠান কপিরাইট © 2013 banglanews24.com সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত
|
|