ঢাকা, বুধবার, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯, ১০ আগস্ট ২০২২, ১১ মহররম ১৪৪৪

জলবায়ু ও পরিবেশ

ওরা বড় হয়েছে এক ফুট করে

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, এনভায়রনমেন্ট স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮৩৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৫
ওরা বড় হয়েছে এক ফুট করে ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) : ওরা বড় হয়েছে প্রায় এক ফুট করে। ওজনও বেড়েছে শরীরের।

মাঝে মাঝে তারা তাদের নিজেদের শরীরের খোলস পাল্টাচ্ছে। শীত মৌসুমে ওরা প্রাকৃতিক নিয়মে প্রথমে পানিতে, পরে শীত তীব্রতর হলে মাটির গর্ভে প্রবেশ করে। লাউয়াছড়ার ট্রান্সমিটারযুক্ত অজগরদের সম্পর্কে এমনই বললেন গবেষক।  

আমাদের দেশে বিপন্ন প্রজাতির সরীসৃপ অজগর। প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে অজগরের উপর গবেষণা প্রয়োজন। আর সেই গবেষণার উদ্দেশ্যেই এখন পর্যন্ত সাতটি অজগরের দেহে ছোট্ট রেডিওট্রান্সমিটার যন্ত্র স্থাপন করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে।

কেমন আছে সেই যন্ত্রনির্ভর সাপেরা? কতটুকুই বা তাদের শারীরিক অগ্রগতি? এমন প্রশ্নের জবাবে অজগর গবেষণা প্রকল্পের গবেষক ও প্রখ্যাত সরীসৃপ বিশেষজ্ঞ শাহরীয়ার সিজার রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ওদের ওজন গড়ে এক থেকে দু’কেজি করে বেড়েছে এবং দৈর্ঘ্যেও তারা এক ফুট করে বেড়েছে। ওদের কাছ থেকে আমার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারছি। বছরে তারা কয়েকবার নিজেদের শরীরের খোলস পাল্টিয়েছে। নিজেরা যে শিকার ধরে খাচ্ছে এটার প্রমাণও আমরা পেয়েছি। খাবার সংগ্রহ করে খাওয়া এবং খোলস পাল্টানো থেকে বোঝা যাচ্ছে ওরা পুরিপুরি সুস্থ-স্বাভাবিক রয়েছে। শীত মৌসুমে অজগরেরা প্রথমে পানিতে, পরে শীত তীব্রতর হলে মাটির গর্ভে প্রবেশ করে।
 
তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ১৮ জুলাই ‘আশা’ নামের অজগরের শরীরে প্রথম রেডিও ট্রান্সমিটার স্থাপনের মাধ্যমে দেশে বন্যপ্রাণি গবেষণার একটি ঐতিহাসিক শুভ সূচনা ঘটে। অজগরের শরীরে রেডিও ট্রান্সমিটার স্থাপনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিপন্ন অজগর প্রজাতিটিকে আমাদের বনে বাঁচিয়ে রাখতে নানা তথ্য সংগ্রহসহ গবেষণা।
 
সিজার আরও বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় দু’বছরে সাতটি অজগরের শরীরে রেডিও ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হয়েছে। পরবর্তীতে আরও কিছু অজগরের শরীরে ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হবে।   বাংলাদেশ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বন বিভাগের সহযোগিতায় ‘কারিনাম’ এই অজগর গবেষণা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

ইতোমধ্যে সাতটি অজগরের শরীরে রেডিও ট্রান্সমিটার স্থাপন করে বনে অবমুক্ত করেছি। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে রেডিও ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে বিপন্ন অজগর প্রজাতিটিকে আমাদের বনে বাঁচিয়ে রাখতে নানা তথ্য সংগ্রহসহ গবেষণা। বাংলাদেশ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বন বিভাগের সহযোগিতায় ‘কারিনাম’ এ অজগর গবেষণা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

বাংলাদেশ পাইথন প্রজেক্ট সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১৮ জুলাই প্রায় ৮ ফুট দৈর্ঘ্য এবং সাড়ে ৮ কেজি ওজনের ‘আশা’ নামের অজগরের শরীরে প্রথম রেডিও ট্রান্সমিটার স্থাপন করে লাউয়াছড়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়। আশার এই সফলতায় ওই বছরের ১১ অক্টোবর ‘বনি’ এবং ‘চৈতি’র দেহে অস্ত্রোপচার করে রেডিও ট্রান্সমিটার বসানো হয়।
 
বনির দৈর্ঘ্য ছিল সোয়া ৯ ফুট ও ওজন সাড়ে ১০ কেজি আর চৈতির দৈর্ঘ্য সাড়ে ১১ ফুট এবং ওজন প্রায় ১৩ কেজি। তিনদিন পর্যবেক্ষণ শেষে তাদের দু’জনকে ১৪ অক্টোবর ছেড়ে দেওয়া হয় লাউয়াছড়ার অরণ্যে। এরপর ২০১৪ সালের ৪ আগস্ট লাউয়াছড়ায় অবমুক্ত করা হয় ৭ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৪ কেজি ওজনের ‘ডিন’কে।
 
সূত্র আরও জানায়, চলতি বছরের ৭ মার্চ ৭ ফুট ২ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও  প্রায় ৬ কেজির ওজনের ইভাকে লাউয়াছড়ার জানকিছড়া জলাশয়ের ছেড়ে দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর  জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য এবং সাড়ে ৭ কেজি ওজনের ফিরোজকে লাউয়াছড়ায় অবমুক্ত করা হয়। সবশেষ ১৪ জুলাই প্রায় বারো ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ কেজি ৩৮০ গ্রাম ওজনের গোলাপিকে অবমুক্ত করা হয় লাউয়াছড়ার জানকিছড়া বিটে।
 
বাংলাদেশ সময়: ০৮৩৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৫
বিবিবি/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa