ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

অলিম্পিক বিস্কুটে প্রতারিত গ্রাহক

গুণগত মান নেই ইএসআরএম’র রডের

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৫৬ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৪
গুণগত মান নেই ইএসআরএম’র রডের

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সুপরিচিত এহসান স্টিল এন্ড রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের (ইএসআরএম) কারখানায় তৈরি লোহার রডের গুণগত মান নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে বাজারে মুখরোচক অলিম্পিক বিস্কুটও গুণগত মান যাচাই ছাড়াই তুলে দেয়া হচ্ছে গ্রাহকের হাতে।



বৃহস্পতিবার ইএসআরএমসহ তিনটি লোহার রড এবং দু’টি ভোগ্যপণ্য উৎপানকারী কারখানাসহ মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ।

অভিযুক্ত লোহার রড উৎপাদনকারী কারখানার মালিকরা হচ্ছেন, নগরীর কর্ণফুলী থানার চরপাথরঘাটা এলাকার এহসান স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.আবু আলম, নাছিরাবাদ শিল্প এলাকার বেঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিজ (বিডি) লিমিটেডের পরিচালক এম এস ফজলুল বারি এবং একই এলাকার মাল্টি স্টিল কাস্টিং লিমিটেডের পরিচালক মাহবুব মহিউদ্দিন।

অভিযুক্ত অপর দু’জন হচ্ছেন, নগরীর নাসিরাবাদ এলাকার ওরিয়েন্টাল বেকারি এন্ড বিস্কুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালক মো.বশিরুল হুদা এবং পটিয়ার ইন্দ্রপুল এলাকার বোগদাদ ফ্লাওয়ার মিলের মালিক হাজী সামছুল আলম।

এদের মধ্যে বোগদাদ ফ্লাওয়ার মিলের মালিকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। বাকি পাঁচজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে।

বিএসটিআই’র চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক কে এম হানিফ বাংলানিউজকে বলেন, পাঁচটি কারখানাই চট্টগ্রামের বড় প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তাদের কাছে বিএসটিআই’র বৈধ কোন লাইসেন্স নেই। তারা তাদের পণ্য বিএসটিআই’র কাছে পরীক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পাঠাচ্ছেন না। ফলে গুণগত মান নিশ্চিত না করেই তৈরি করা লোহার রড কিংবা বিভিন্ন ধরনের বিস্কুট সরবরাহ করা হচ্ছে গ্রাহকদের।

লাইসেন্স ছাড়া উৎপাদিত পণ্য বিক্রি ও বিতরণ অব্যাহত রাখায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান কে এম হানিফ।

মামলার এজাহারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিএসটিআই অধ্যাদেশ (সংশোধিত ২০০৩) এর ২৪ ও ৩১ (এ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বিএসটিআই কর্মকর্তারা জানান, বাজারে ‍বর্তমানে অলিম্পিক মিল্ক মেরী, অলিম্পিক চকো মেরী এবং অলিম্পিক মেরী গোল্ড নামে তিনটি সুস্বাদু বিস্কুট দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। ওরিয়েন্টাল বেকারিতে প্রস্তুত হওয়া এসব বিস্কুট তৈরিতে যথাযথ গুণগত মান অনুসরণ কর‍া হচ্ছেনা। এর ফলে গ্রাহকরা এসব বিস্কুট কিনে প্রতারিত হচ্ছেন বলে মনে করছেন বিএসটিআই’র কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, বুধবার পরিদর্শনকালে বিএসটিআই’র কর্মকর্তারা একটি কারখানায়ও বৈধ কোন লাইসেন্স পাননি। প্রত্যেক কারখানার লাইসেন্সের মেয়াদ পার হয়ে গেলেও সেগুলো নবায়ন করা হয়নি।

বিএসটিআই’র সহকারী পরিচালক কে এম হানিফ বাংলানিউজকে বলেন, ‘কারখানাগুলো অনিয়মের তথ্য প্রমাণ পাবার পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন আইনগতভাবেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তি হবে। ’

বাংলাদেশ সময়: ১৫৫৬ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa