ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ ভাদ্র ১৪২৯, ১৮ আগস্ট ২০২২, ১৯ মহররম ১৪৪৪

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

দুর্নীতির আরও এক মামলায় মৃধার বিচার শুরু

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩১৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৪
দুর্নীতির আরও এক মামলায় মৃধার বিচার শুরু

চট্টগ্রাম: বস্তাভর্তি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় আলোচিত রেলওয়ের সাবেক মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া আরও একটি মামলায় বিচার শুরু হয়েছে। একই মামলায় মৃধাসহ আরও ৫ জন আসামি হিসেবে আছেন।



বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এস এম মুজিবুর রহমানের আদালতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ বিচার শুরু হয়েছে। আগামী ১৩ মার্চ আদালত এ মামলায় প্রথম দফা সাক্ষ্যগ্রহণের সময় নির্ধারণ করেছেন।

মামলার পাঁচ আসামিই পলাতক। অভিযোগ গঠনের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক মাহমুদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘ইউসুফ আলী মৃধাসহ পাঁচজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। আদালত পরে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর সময় নির্ধারণ করবেন। ’

অভিযুক্ত বাকি চারজন হলেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান এবং অবৈধভাবে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা দু’প্রার্থী সুলতানা বেগম ও গণেশ চন্দ্র শীল।  

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সহকারী কেমিস্ট পদে নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের তিন কর্মকর্তাকে আসামি করে ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর কোতয়ালী থানায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা।

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সরকারী কর্মচারী হয়েও পরস্পরের যোগসাজশে সহকারী কেমিস্ট পদে নিয়োগ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার খাতা ও টেবুলেশন শিটের ফলাফল ঘষামাঝা করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীকে নিয়োগ না দিয়ে ফেল করা প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ ও অনুমোদন করেন।

২০১৩ সালের ১৮ আগস্ট তিন কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা দু’জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬৬, ১৬৭, ১৬৮, ৪৭৭ (ক), ২১৭ ও ১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ফুয়েল চেকার পদে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় মৃধাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

উল্লেখ্য ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল সুরঞ্জিতের এপিএসের গাড়িতে ৭০ লাখ টাকা পায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জওয়ানরা। এ সময় ওই গাড়িতে অভিযুক্ত ওই দু’জন ছাড়াও রেলের নিরাপত্তা বাহিনীর ঢাকা বিভাগীয় কমান্ড্যান্ট এনামুল হকও ছিলেন। সে রাতে ফারুকের গাড়িচালক আলী আজম বিজিবি দফতরে টাকাসহ গাড়িটি ঢুকিয়ে দেন। ঘটনার পরদিন থেকে আলী আজম ‘রহস্যজনকভাবে’ নিখোঁজ আছেন।

পরে ওই ঘটনার জেরে রেলমন্ত্রীর পদ ছাড়েন সুরঞ্জিত। বরখাস্ত হন ফারুক এবং সাময়িক বরখাস্ত হন মৃধা ও এনামুল।

বাংলাদেশ সময়: ১৩০০ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৪ 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa