ঢাকা, সোমবার, ২ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

সুবিধাবঞ্চিত শিশুর পাশে রুহুল আমিন 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৪৭ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৫, ২০২১
সুবিধাবঞ্চিত শিশুর পাশে রুহুল আমিন  ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম: ‘শেখ হাসিনার হাতটি ধরে, পথের শিশু যাবে ঘরে’ শ্লোগান ধারণ করে ২০১২ সালের আগস্ট থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুরক্ষাকল্পে কাজ করে যাচ্ছে শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র।  

শিশুদের চিত্তবিনোদন, খেলার সুযোগ, মাতৃপরশ দেওয়ার মত নানান সৃজনশীল কাজ করার  চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রটি।

 

হাটহাজারী উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ রুহুল আমীনের উদ্যোগে কেন্দ্রে যুক্ত করা হয় শিশুদের বিনোদনের নান্দনিক অনুষঙ্গ। তাদের খেলাধুলার জন্য তৈরি করা হয় ‘শিশুরাজ্য-৩’ নামে একটা শিশুপার্ক, সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয় মাঠ, শীতকালে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য প্রস্তুত করে দেওয়া হয় একটি ‘ব্যাডমিন্টন কোর্ট’। সংস্কার করে দেওয়া হয় কেন্দ্রের অভ্যন্তরের কিছু সড়ক এবং সীমানা দেওয়াল। উদ্ধার করে দেওয়া হয় অবৈধ দখলে থাকা কেন্দ্রের কিছু জমি।  

মোহাম্মাদ রুহুল আমিন বলেন, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদে যোগদান করি। এরপর থেকে নিয়মিত এই কেন্দ্রের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ নানান বিষয়েও উদ্যোগ নিয়েছি। করোনার কারণে কিছুদিন কাজ করার সু্যোগ পাইনি। তবে বদলি হওয়ার কয়েক মাস আগে এ কেন্দ্রের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনোদনের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সঙ্গে নিয়ে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করি। কাজ চলাকালে পুরোদমে তত্ত্বাবধান করি। এখন শিশুদের জন্য খেলার পরিবেশ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।  

শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপ পরিচালক জেসমিন আকতার বলেন, কেন্দ্রের শিশুদের মানসিকতা বিকাশ ও খেলাধুলার কিছু অনুষঙ্গের ঘাটতি ছিল। সাবেক হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে ব্যাপক উন্নয়নকাজ হয়েছে। খেলার মাঠ, ব্যাটমিন্টন কোর্ট ও বিনোদনের উপকরণগুলো পেয়ে শিশুরা খুশি হয়েছে।  

তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী মোহাম্মাদ রুহুল আমিন অন্যত্র বদলি হলেও চলমান কাজের নিয়মিত খোঁজ রাখতেন। কেন্দ্রের কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। উন্নয়নকাজ শেষ হলে আমাদের আমন্ত্রণে তিনি সরেজমিন দেখতে আসেন। সংস্কারকৃত মাঠে শিশুদের খেলাধুলা করতে দেখে তিনি খুশি হন।

হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নে অবস্থিত এই কেন্দ্রে বর্তমানে ১০৪ জন ছেলে শিশু এবং ১০২ জন মেয়ে শিশু রয়েছে। ৬ বছর থেকে অনূর্ধ্ব ১৮ বছরের পথশিশু, শিশুশ্রমিক, মাতা-পিতা বা অভিভাবকের স্নেহবঞ্চিত শিশু, গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু, পাচার থেকে উদ্ধারকৃত শিশু, হারিয়ে যাওয়া শিশু, নির্যাতনের শিকার হয়ে ঝুঁকিতে থাকা শিশু, বাল্যবিবাহের শিকার শিশুসহ মোট ১৩ ধরনের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটি।

দেশের ১৩টি জেলায় সরকারের চলমান শিশুবান্ধব কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্থাপিত চট্টগ্রাম শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের সেবা প্রদান কার্যক্রম ইতিমধ্যে মানুষের মাঝে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই কেন্দ্রের কার্যক্রমের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

একসময় যারা এদিক সেদিক ঘুরে বেড়িয়েছে, এই কেন্দ্রে এসে তারা খুঁজে পেয়েছে বিনোদনের সুন্দর পরিবেশ, নিরাপদ আশ্রয়। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুন্দর ও আনন্দময় শৈশবের স্বাদ দিতে প্রায় তিন বছর নিরলস কাজ করে গেছেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মাদ রুহুল আমিন।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৩০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৫, ২০২১
বিই/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa