ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ আশ্বিন ১৪২৯, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দেশকে পাপমুক্ত করেছেন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২১৯ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০২২
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দেশকে পাপমুক্ত করেছেন বক্তব্য দেন সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান খান।

চট্টগ্রাম: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান খান বলেছেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন বলেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্র পেয়েছি।

 

তাঁর জন্ম না হলে আজ আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারতাম না। খুনি জিয়া-মোস্তাকসহ একাত্তরে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা মেনে নেয়নি তারাই ১৯৭৫ সালের পনেরোই আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এ রকম নারকীয় হত্যাকাণ্ড আর ঘটেনি। জিয়া জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ধরে ধরে হত্যা করেছে, অনেককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মেরেছে, কিন্তু ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। চট্টগ্রামেই তাকে জীবন দিতে হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের উপযুক্ত বিচারের মাধ্যমে দেশকে পাপমুক্ত করেছেন।  

বঙ্গবন্ধুর খুনি যারা এখনো বিদেশে পলাতক রয়েছে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন যে সব রাজাকার, আল বদর এদেশের মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করেছে সে সব ধর্ষকেরও বিচার সময়ের ব্যাপার। দেশের স্বাধীনতাবিরোধী ও বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের হত্যার মদদদাতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।  

বুধবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা ইউনিট কমান্ডের যৌথ উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নগরের আন্দরকিল্লার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন চত্বরে আয়োজিত সমাপনী দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাহাবউদ্দিন মজুমদার রচিত ‘বাঙালা হতে বাংলাদেশ’ বিষয়ক মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন অতিথিরা।  

শাহজাহান খান বলেন, বঙ্গবন্ধু একমাত্র নেতা যিনি সমগ্র বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যেত। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা তা হতে দেয়নি। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজাকারদের মন্ত্রী বানিয়েছে, তাদের গাড়িতে পতাকা  উড়েছে। এটা বাঙালি জাতির জন্য কলঙ্ক। তাদের হাতে জাতি কখনো নিরাপদ ছিল না। আজ জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হয়েছে। কর্ণফুলী টানেলসহ বড় বড় মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হতে চলেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও উদ্দেশ্য হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। সব ভেদাভেদ ভুলে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২০৪১ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে সজাগ থাকতে হবে।

প্রধান বক্তা সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে জানার কোনো শেষ নেই। তিনি অত্যন্ত দূরদর্শী নেতা ছিলেন। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই তিনি আজীবন যুদ্ধ করে গেছেন। যে ব্যক্তি আজীবন দেশের স্বাধীনতা ও এদেশের মানুষের জন্য ত্যাগ করে গেছেন তাঁকেই সপরিবারে নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে। এ বর্বরতম হত্যাকাণ্ডের পরও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে তারাই আজ ইতিহাস বিকৃত করছে। নতুন প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। শোককে শক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের মহাসড়কে শামিল হতে হবে।  

বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭১ সালে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। বঙ্গবন্ধু এ দেশের মাটি ও মানুষকে যেভাবে গভীর ভালোবাসার বন্ধনে উজ্জ্বীবিত করেছিলেন তা বিশ্বের ইতিহাসে নজির। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে না হলে বাংলাদেশ কখনও স্বাধীন হতো না। যারা এ দেশের স্বাধীনতা সহ্য করেনি তারাই ১৯৭৫ সালের পনেরোই আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করছে। জাতির পিতা হত্যাকারী, মদদদাতা ও ইতিহাস বিকৃতকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।  

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদের সভাপতিত্বে ও সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র বিশ্বাসের সঞ্চালনায় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান আলী, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম সোলতান আহমদ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক ও সামরিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) মো. এমদাদুল ইসলাম ও সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। বক্তব্য দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সরোয়ার কামাল দুলু, মহানগরীর ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল হক প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪৩ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০২২
এআর/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa