ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ মাঘ ১৪২৯, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৫ রজব ১৪৪৪

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

প্রধানমন্ত্রী উচ্চশিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে জোর দিয়েছেন: নওফেল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭২৯ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৫, ২০২২
প্রধানমন্ত্রী উচ্চশিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে জোর দিয়েছেন: নওফেল বক্তব্য দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

চট্টগ্রাম: শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, অ্যাক্রেডিটেশন বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী প্রসেস। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা উচ্চশিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে জোর দিয়েছেন।

 

শুক্রবার(২৫ নভেম্বর) সকালে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির দামপাড়াস্থ কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের উদ্যোগে উচ্চশিক্ষায় অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার কাজ আমাদের যেভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে, তাতে যারা অংশগ্রহণ করছে, তাদের কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে তাদের মান নিয়ন্ত্রণ করা, যোগ্যতা নির্ধারণ করা এবং সুনির্দিষ্ট মাত্রায় তাদের যে-শিখনফল তা অর্জিত হয়েছে কিনা দেখাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে।

কারণ আমাদের বিশাল একটা জনগোষ্ঠী এখন উচ্চশিক্ষা খাতে আসছে।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, যেহেতু মানহীন শিক্ষাদান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল, সুতরাং সংখ্যার চেয়ে মানের দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলকে দেশের একটি যুগান্তকারী অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অ্যাক্রেডিটেশন বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। অ্যাক্রেডিটেশন ছাড়া শিক্ষার্থীরা চাকরি পাবে না।

তিনি চাকরিদাতাদের চাহিদা অনুসারে যুগোপযোগী কারিক্যুলাম প্রণয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করার জন্য বিএসিকে পদক্ষেপ নিতে বলেন। এ ছাড়াও শুধু উচ্চতর ডিগ্রিগুলোই নয়, ডিপ্লোমা ডিগ্রিকেও অ্যাক্রেডিটেশনের আওতায় আনার জন্য তিনি বিএসিকে আহবান জানান।  

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেন, একটি দেশ ও একটি জাতি এগিয়ে যায় শিক্ষার ভিত্তিতে। বর্তমান বিশ্বের অগ্রগতির ভিত্তি হলো শিক্ষা। এই শিক্ষার দুটো দিক রয়েছে; একটি হলো প্রাইমারি, যা শৈশব থেকে সেকেন্ডারি পর্যন্ত; অপরটি হলো উচ্চশিক্ষা।  

ড. অনুপম সেন আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও ভারতবর্ষের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কথা তুলে ধরে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে অ্যাক্রিডেট করা হয় তা বর্ণনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সবাইকে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হতে হবে, বিএসি চট্টগ্রামে এই বার্তাই নিয়ে এসেছে।

বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হলেও শিক্ষাক্ষেত্রে আশানুরূপ উন্নতি হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি কর্মশালায় অংশ নেওয়া সবাইকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করার আহবান জানান।  

কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য প্রফেসর ড. সঞ্জয় কুমার অধিকারী এবং প্রফেসর ড. এসএম কবীর কর্মশালায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।  

কর্মশালায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ডিন, আইকিউএসির পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালক, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধানরা অংশ নেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালকসহ ১২টি সরকারি-বেসরকারি কলেজ ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষরা কর্মশালায় অংশ নেন।

বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজবিজ্ঞানী, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন। স্বাগত দেন আইকিউএসি, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির পরিচালক প্রফেসর ড. তৌফিক সাঈদ।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৫০ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৫, ২০২২
বিই/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa