ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ বৈশাখ ১৪৩১, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৫

অর্থনীতি-ব্যবসা

চিংড়ি ঘেরে ভাইরাস!

মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, জেলা প্রতিনিধি | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২১১ ঘণ্টা, অক্টোবর ৩, ২০১০
চিংড়ি ঘেরে ভাইরাস!

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার অধিকাংশ চিংড়ি ঘেরে ভাইরাস দেখা দিয়েছে। একারণে ঘেরে চিংড়ি মারা যাচ্ছে।

সর্বস্বান্ত হচ্ছেন চাষিরা। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী চিংড়ি শিল্প।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হয়েছে। চলতি বছর চিংড়ি উৎপাদনের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার মেট্রিক টন। যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ কোটি টাকা।

জেলায় বাগদা চিংড়ি ঘেরের সংখ্যা (সরকারি হিসাবে)  ১৭ হাজার ৬১৩ টি। বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আরও বেশি। বাগদা চিংড়ি পোনার চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি কোটি। এর অধিকাংশ পোনা সরবরাহ হয় কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হ্যাচারি থেকে।

দেবহাটার চিংড়ি ব্যবসায়ী ইসাহক আলী গাজী, আশাশুনি চিংড়ি চাষি আব্দুল আজিজ এবং নূরুল আমিন বাংলানিউজকে জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর চিংড়ি ঘেরে ভাইরাসের আক্রমণ বেশি। ঘেরে ১০০ পোনা ছাড়লে মারা যাচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টি চিংড়ি।

সাতীরা জেলা চিংড়ি চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুল কালাম বাবলা বাংলানিউজকে জানান, এ বছর ঘেরে ভাইরাস আক্রমণের পিছনে ভাইরাসযুক্ত চিংড়ি পোনার পাশাপাশি খারাপ আবহাওয়া একটি কারণ। সময় মত বৃষ্টি না হওয়ার কারণে ঘেরের লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভাইরাসমুক্ত চিংড়ি পোনা সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে চিংড়ি শিল্প মারাতœকভাবে তিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নিত্যরঞ্জন বিশ্বাস বাংলানিউজকে জানান, এ বছর প্রয়োজনীয় বৃষ্টি না হওয়া চিংড়ি ঘেরে ভাইরাস আক্রমণ করেছে।

আশাশুনি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সিরাজুল রহমান বাংলানিউজকে জানান, ভাইরাস আক্রমণের কারণে জেলায় চিংড়ি চাষে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে।

তিনি আর জানান, চিংড়ি ভাইরাস মোকাবেলায় কোনো ওষুধ এখনও আবিষ্কার হয়নি। তবে নিয়ম মেনে চিংড়ি চাষ করলে ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু চাষিরা নিয়ম মেনে চিংড়ির যতœ নেন না। এজন্য ঘেরে ভাইরাস আক্রমণ করে।

ভাইরাস আক্রান্তের পর মৎস্য কর্মকর্তাদের কিছুই করার থাকে না বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১২৪০ ঘণ্টা, অক্টোবর ০৩, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।