ঢাকা, শনিবার, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৬ মহররম ১৪৪৬

অর্থনীতি-ব্যবসা

মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, লাখ টাকা দিয়ে কোরবানি দিচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬১৩ ঘণ্টা, জুন ২০, ২০২৪
মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, লাখ টাকা দিয়ে কোরবানি দিচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা: এখন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, মানুষ চাইলেই লাখ টাকা দিয়ে কোরবানি দিচ্ছে, এটা বাস্তবতা— এমন মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।

সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক করে বাজারে যাতে কোনো পণ্যের ঘাটতি না থাকে, সে ব্যবস্থা করা এবং ন্যায্যমূল্যে ভোক্তাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত ‘বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতি: প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় জাতীয় বাজেট ২০২৪-২০২৫’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরে আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই, টিসিবির কার্ডধারীরা যখন ইচ্ছা এই কার্ড দিয়ে পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। সারা বাংলাদেশে এখন আমাদের ৭ হাজার ডিলার রয়ছে, সেটা আরও বাড়িয়ে সারা দেশে স্থায়ী দোকানের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য ভর্তুকির মূল্যে দিতে পারব। সেই সাথে কিছু কিছু পণ্য ন্যায্যমূল্যে দেওয়া হবে, সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।  

তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন ও ভর্তুকি নিয়ে কথা বলার সময় এসেছে। আমরা সারে যে ভর্তুকি দেই সেটার কতটুকু ব্যবহার আমরা নিশ্চিত করতে পারি। আজকে আমাদের যে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ ফাঁকা হয়ে গেল। সেটা হয়েছে সার আমদানিতে ও উচ্চমূল্যের তেল আমদানি করতে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।  

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষি গবেষকরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সাহায্য করতে পারে কৃষি উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে যে সরবরাহ চেইন রয়েছে, সেখানে তাদের গবেষণা ও পরামর্শ দরকার। প্রয়োজনে কৃষি বাজার তৈরি করে উৎপাদকের কাছ থেকে সরাসরি বাজারে পণ্য নিয়ে আসতে হবে, সেখান থেকে ভোক্তাদের কাছে।  

আহসানুল ইসলাম টিটু আরও বলেন, শহরের মানুষ পকেটে টাকা নিয়ে পণ্য কিনতে যায়, সেজন্য ক্ষতিগ্রস্ত বেশি হয়। আগে তো গ্রামে পণ্য নিয়ে যেত, সেটা বিক্রি করে প্রয়োজনীয় জিনিস আনতো। এজন্য মনে করি আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা দরকার।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, মানুষ চাইলেই লাখ টাকা দিয়ে কোরবানি দিচ্ছে, এটা বাস্তবতা। আগে গ্রামে গরুর মাংস পাওয়া যেত না। এখন সব জায়গায় পাওয়া যায়। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, যত বেশি এগিয়ে যাব, তত বেশি আমাদের চাহিদা বাড়বে। আর সাথে সাথে পণ্য সরবরাহের প্রয়োজন হবে। এখানে আমাদের সক্ষমতা বেড়েছে। শহরের চেয়ে গ্রামের অর্থনীতি এখন চাঙ্গা বেশি। কারণ বছরে দুটি ঈদে প্রচুর রেমিট্যান্স আসে। যেটা সরাসরি অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। ফলে মানুষের বেশি দাম দিয়ে জিনিস কেনার ক্ষমতা বেড়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাজ্জাদুল হাসানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সম্মানিত অতিথি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশের প্রতিনিধি ডা. জিয়াওকুন শি। মুখ্য আলোচক ছিলেন প্রফেসর ড. শামসুল আলম, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

বাংলাদেশ সময়: ১৬১১ ঘণ্টা, জুন ২০, ২০২৪
জিসিজি/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।