ঢাকা, সোমবার, ৩ আষাঢ় ১৪৩১, ১৭ জুন ২০২৪, ০৯ জিলহজ ১৪৪৫

শিক্ষা

‘ম্যাজিক দেখাব’ বলে শিশু ছাত্রকে পেটানো ‘শিক্ষক’ জেল হাজতে

উপজেলা করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৩৭ ঘণ্টা, মে ২৭, ২০২৪
‘ম্যাজিক দেখাব’ বলে শিশু ছাত্রকে পেটানো ‘শিক্ষক’ জেল হাজতে

পাবনা (ঈশ্বরদী): পাবনার ঈশ্বরদীতে পঞ্চম শ্রেণির আখলাকুর সাফা রাফসান (১১) নামে কোমলমতি এক শিশু শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটানের মামলায় অভিযুক্ত ঈশ্বরদী সাউথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘খণ্ডকালীন শিক্ষক’ উত্তম কুমার দাসকে (৩৮) আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (২৭ মে) বিকেলে পাবনা জেলা আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলা কারগারে পাঠানো হয়।

 

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

‘আমি এখন একটা ম্যাজিক দেখাব’ বলেই ওই কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটান ওই শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সকালে ঈশ্বরদী শহরের দরিনারিচা রহমান কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ওই শিক্ষক ঈশ্বরদী শহরের থানাপাড়া রহমান কলোনি এলাকার তারা দাসের ছেলে এবং আহত শিক্ষার্থী রাফসান ঈশ্বরদী পৌর এলাকার আলোবাগ মোড় এলাকার ব্যবসায়ী রকিবুল ইসলাম রকিবের ছেলে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, শিশু শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় ওই ভূক্তভোগী ছাত্রের বাবা রকিবুল ইসলাম রকিব বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে মামলাটি নথিভুক্ত হয়।  

ওসি আরও জানান, পুলিশ তদন্ত করে দ্রুতই ওই আসামিকে আটক করে। শিশুটিকে আটকে রেখে বেধড়ক পেটানোর দায়ে শিশু নির্যাতন আইনের ধারায় মামলা নথিভুক্ত হয়। পরে তাকে আটক করে আদালতে নেওয়া হয়। আদালত তাকে পাবনা জেল হাজতে পাঠান।  

ঈশ্বরদী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার (টিও) জহুরুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, একদিন আমি সাউথ স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে ৫ম শ্রেণির ক্লাসে ওই ব্যক্তিকে দেখে হতভম্ভ হয়ে পড়ি। এসময় তাকে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কে? তিনি বলেন, আমি শিক্ষক নই শখ করে ক্লাস নিচ্ছি। আমি তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লাস থেকে বের করে দেই এবং আর কখনও ক্লাস নিতে নিষেধ করি। প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার মজুমদারকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তিনি অনুমতি না নিয়েই ক্লাসে ঢুকেছেন আর তিনি ফ্রিতে ক্লাস নেন, সময় কাটান। আমি প্রধান শিক্ষককে বলে দিই, তিনি যেন আর কখনও ক্লাসে না ঢোকেন। এখন শুনছি তিনি খণ্ডকালীন শিক্ষক। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের বিধান নেই। তিনি অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষকের ইন্ধনে স্কুলে আসতেন। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ভেতরে অন্য কোনো ব্যাপার আছে। হয়তো এই শিক্ষকের কোচিং টিউশন ব্যবসা আছে যার সাথে প্রধান শিক্ষক জড়িত। আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।  

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সকালে ঈশ্বরদী সাউথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রাফসান শহরের থানাপাড়া রহমান কলোনি মহল্লার শিক্ষক উত্তমের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যায়। এসময় শিশু শিক্ষার্থী প্রাইভেটে বসে পড়া মুখস্থ করার সময় ‘চোখ উপরের দিক তাকিয়ে’ পড়া মুখস্থ করছিল। এসময় শিক্ষক উত্তম কুমার ওই শিক্ষার্থীকে বইয়ের দিকে তাকিয়ে পড়তে বলেন। তাৎক্ষণিক শিক্ষকের কথা শিশু রাফসিন বুঝতে পারেনি। প্রাইভেট শেষ করে শিক্ষক উত্তম সব শিক্ষার্থীকে বাইরে যেতে বলে। এসময় তিনি হাসতে হাসতে দম্ভ করে বলেন, আমি এখন একটা ম্যাজিক দেখাবো। বলেই রাফসানতে বেত দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করেন।

বাংলাদেশ সময়: ২১৩১ ঘণ্টা, মে ২৭, ২০২৪
নিউজ ডেস্ক

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।