জাবি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টররিয়াল বডির সদস্যরা।
শনিবার ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে এক ভর্তিচ্ছুর মোবাইল ফোনে পাওয়া খুদে বার্তায় ওই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
শনিবার অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের ২১৭ নম্বর কক্ষে আব্দুল্লাহ আল নোমান নামের ওই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী পেন্সিল দিয়ে উত্তরপত্রের ২ নম্বর সেট কোড পূরণ করেন। বিষয়টি হল পরিদর্শক মোহাম্মদ গোলাম রব্বানীর নজরে এলে তিনি ওই ভর্তিচ্ছুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এ সময় তার কাছে থাকা মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে ১ নম্বর সেটের উত্তর আসতে শুরু করে।
পরে ১ নম্বর সেটের উত্তরের সঙ্গে খুদে বার্তার উত্তরের মিল পান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সাংবাদিকরা।
এ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে নোমান জানান, ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে উত্তর জানিয়ে দেওয়ার শর্তে রাসেল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে দুই লাখ টাকার চুক্তি হয়।
এ জন্য নোমান প্রথমে পেন্সিল দিয়ে ২ নম্বর সেট কোড পূরণ করেন। পরে রাবারের সাহায্যে তা মিশিয়ে দিয়ে কলম দিয়ে খুদে বার্তায় পাওয়া সেট কোডটি পূরণ করেন।
এদিকে, নোমানের মাধ্যমে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের সামনে আসতে বলা হলে আবদুর রহমান এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান আলী সেখানে এসে উপস্থিত হন।
পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তাদের আটক করতে গেলে আবদুর রহমান দৌঁড়ে পালিয়ে যান।
পরে নোমান এবং রায়হানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ভর্তিচ্ছু ইবরার রাকাত, মো. শাহনেয়াজ এবং ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ভর্তি পরীক্ষার্থী মেহেদী হাসান হৃদয়কে আটক করা হয়।
এদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের ৪২তম ব্যাচের মো. সাহেদ আলীর নাম জানান। পরে আটকদের মুচলেকা নিয়ে পুলিশে দিয়ে দেওয়া হয়। মো. সাহেদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
খুদে বার্তার উত্তরের সঙ্গে প্রশ্নের মিল থাকায় প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলেও সেটি পরীক্ষা শুরুর আগে না পরীক্ষা চলাকালে ফাঁস হয়েছে, তা সুনির্দ্দিষ্ট করে জানা যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক মোহা. মুজিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাহেদ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর সঙ্গে আর কারা জড়িত আছেন, তাদের খুঁজে বের করা হবে এবং আটকদের পুলিশে দিয়ে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ২১৩৩ ঘণ্টা, মার্চ ০১, ২০১৪