সিলেট: সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের আকাশে উড়লো প্রায় দুই শতাধিক ‘পেপার ড্রোন’। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণীদের কাগজে বানানো ড্রোন নিয়ে প্রতিযোগিতা রূপ নেয় ‘পেপার ড্রোন’ ওড়ানো উৎসবে।
মনুষ্যবিহীন উড়োজাহাজ (ড্রোন) ধারণা উন্মোচন ও মানুষের কাছে বিজ্ঞান সহজ করতে এই উদ্যোগ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক বিভাগের শিক্ষক জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।
প্রতিযোগিতা শেষে নিজস্ব তহবিল থেকে প্রতিযোগীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাভবন ‘এ’ এর সামনে হ্যান্ডবল গ্রাউন্ডে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রতিযোগিতা দেখতে ভিড় করেন কয়েক হাজার উৎসুক শিক্ষার্থী।
প্রথমে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও প্রফেসর ড. ইয়াসমিন হক ‘পেপার ড্রোন’ উড়িয়ে ড্রোন ওড়ানো প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। এরপর ধাপে ধাপে একের পর এক ড্রোন ওড়াতে শুরু করেন দুই শতাধিক শিক্ষার্থী।
এসময় ড. জাফর ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, যখন আন্দোলন আর ধর্মঘটে সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অচলাবস্থা। তখন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতিক্রমী এই আয়োজন করে দেখিয়ে দিয়েছে সৃষ্টিশীল কাজে তরুণ-তরুণী শিক্ষার্থীদের উৎসবমুখরতা।
তিনি বলেন, অনেকে মেধা খাটিয়ে কাগজ দিয়ে তৈরি করেছে প্লেন। সেগুলো উড়িয়ে দিয়ে তারা প্রতিভার প্রমাণ রেখেছে। দেখতে এটি সহজ মনে হলেও এর মধ্যে মেধা, প্রতিভা ও সৃষ্টিশীলতা লুকিয়ে আছে।
ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, এটা আয়োজন করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা দেখার জন্য । এর মধ্যে থেকে বাছাই করে ড্রোন প্রজেক্টে শিক্ষার্থী নেওয়া হবে।
সাস্ট রোবটিক্স অ্যারোনটিক্সের ইন্টারফেসিং রিসার্চ টিম লিডার সৈয়দ রেজওয়ানুল হক নাবিল বাংলানিউজকে জানান, কাগজের প্লেন ওড়ানো প্রতিযোগিতা দুটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ক্যাটাগরির নাম ‘রানার’ ও দ্বিতীয়টি ‘নাবিক’।
সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রমকারী প্লেন হয় রানার আর সবচেয়ে বেশি সময় ভেসে থাকতে সক্ষম হয়েছে এমন প্লেনগুলো হয় নাবিক।
এ প্রতিযোগিতায় রানার ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান এম এ তালিব, দ্বিতীয় স্থান যৌথভাবে সৈয়দ নবিউল আলম ও মিঠুন চন্দ্র দাশ এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন যৌথভাবে মিনহাজ হাসান, হারুন ফয়সাল ও ইব্রাহিম আলী।
নাবিক ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান তানভীর, দ্বিতীয় স্থান আশরাফুল ইসলাম ও নিশান এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন আবু বকর রাজীব, রাশেদুজ্জামান, রানা প্রতাপ হীরা।
বিজয়ীদের হাতে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা বই পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দ। প্রথম স্থান বিজয়ী পান ৫০০০ হাজার টাকার বই এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান বিজয়ীদের যথাক্রমে ২৫০০ ও ১৫০০ টাকার বই দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ সময়: ০১৩৭ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৯, ২০১৪