ঢাকা, রবিবার, ১ কার্তিক ১৪২৮, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

কুকুর লেলিয়ে হিমু হত্যা মামলার বিচার শুরু

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২১৩ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৪
কুকুর লেলিয়ে হিমু হত্যা মামলার বিচার শুরু

চট্টগ্রাম: অবশেষে বিদেশি কুকুর লেলিয়ে দিয়ে মেধাবী ছাত্র হিমাদ্রি মজুমদার হিমু হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।  

 

সোমবার মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ৫জন আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এসএম মুজিবুর রহমানের আদালতে চাঞ্চল্যকর এ মামলার কার্যক্রম চলছে।  

 

মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ওমর ফুয়াদ বাংলানিউজকে জানান, চাঞ্চল্যকর হিমু হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ৫ জন আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৮ ফ্রেব্রুয়ারি প্রথম দফা সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছে আদালত।  

 

এর আগে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের সময় চারবার পিছিয়েছে আদালত। সর্বশেষ গত ২৭ জানুয়ারি হিমাদ্রি মজুমদার হিমু হত্যা মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সময় পেছানো হয়।  

 

এর আগে গত ১৭ ও ২৮ নভেম্বর এবং সর্বশেষ ১৬ জানুযারি তিন দফা অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে যায়।  

 

এলাকায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় ২০১২ সালের ২৭ এপ্রিল নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ‘ফরহাদ ম্যানশন’ নামের ১০১ নম্বর বাড়ির চারতলায় হিমুকে হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দিয়ে নিমর্মভাবে নির্যাতন করে সেখান থেকে ফেলে দেয় অভিজাত পরিবারের কয়েকজন বখাটে যুবক।  

 

গুরুতর আহত হিমু ২৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ২৩ মে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। হিমু পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ইংরেজি মাধ্যমের সামারফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘এ’ লেভেলের শিক্ষার্থী ছিল।

 

এ ঘটনায় হিমুর মামা প্রকাশ দাশ অসিত বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় পাঁচজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। আসামীরা হলেন, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী শাহ সেলিম টিপু, তার ছেলে জুনায়েদ আহমেদ রিয়াদ এবং রিয়াদের তিন বন্ধু শাহাদাৎ হোসাইন সাজু, মাহাবুব আলী খান ড্যানি এবং জাহিদুল ইসলাম শাওন।

 

মামলা দায়েরের এক মাসের মাথায় আসামী শাহাদাত হোসাইন সাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর শাহ সেলিম টিপু ও ছেলে রিয়াদ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠান। কিন্তু পরবর্তীতে তিনজনই জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান।

 

এদিকে ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ওই মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচজন আসামীকে অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। ১৮ অক্টোবর পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম।  

 

ওই আদালত থেকে বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়ে মামলাটির নথি নভেম্বরের শুরুতে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসে। এরপর আদালত চার দফা অভিযোগ গঠনের সময় নির্ধারণ করেন। কিন্তু কখনও রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদন, কখনও আসামীপক্ষের সময় প্রার্থনা আবার কখনও হরতালের কারণে পিছিয়ে যাচ্ছে শুনানি।

 

বাংলাদেশ সময়: ১৩১০ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৩,২০১৪ 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa