ঢাকা, শনিবার, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

পূর্বাঞ্চল রেলে ইঞ্জিন সংকট, দুর্ভোগে যাত্রীরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪৩৬ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৭, ২০২১
পূর্বাঞ্চল রেলে ইঞ্জিন সংকট, দুর্ভোগে যাত্রীরা ফাইল ছবি।

চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) সংকটের কারণে প্রায় সময় বিলম্বিত হচ্ছে ট্রেন যাত্রা। পুরনো ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেন পরিচালনার কারণে সিডিউল ঠিক রাখা যাচ্ছে না।

এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।  

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, একটি ইঞ্জিনের মেয়াদকাল ২০ বছর হলেও ১৩৩টি ইঞ্জিনের মধ্যে ৯৪টির মেয়াদ নেই। ১৯৬১ থেকে ১৯৮২ সালে তৈরি ইঞ্জিনও আছে এখানে। এছাড়া নতুন ইঞ্জিন যুক্ত হয়েছে ২০টি।

সংকট নিরসনে ৩০০০০১ থেকে ৩০০০১০ নাম্বারের ১০টি ইঞ্জিন কিনেছিল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কিন্ত এই ইঞ্জিনগুলোতে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ সংযোগের অভিযোগ ওঠায় রেলওয়ের শেডে রেখে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত ইঞ্জিন সংকটের কারণে সেখান থেকেও ৩-৪টি ইঞ্জিন ব্যবহার করতে হচ্ছে। চলতি বছরের আগস্ট মাসে ১০টি এবং ৪ অক্টোবর ১০টি ইঞ্জিন যুক্ত হলেও সংকট কাটেনি। এ অবস্থায় নভেম্বরে আরও ১০টি ইঞ্জিন যুক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।  

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সাগরিকা এক্সপ্রেস চাঁদপুরের উদ্দেশ্য ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ইঞ্জিন দেরিতে আসায় সেটি ছেড়েছে ৮টা ৫০ মিনিটে।  ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন ৭টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়েছে ৭টা ৩৫ মিনিটে। সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ৯টায় ছাড়ার সিডিউল থাকলেও ট্রেনটি ১ ঘন্টা ১০ মিনিট ইঞ্জিনের জন্য অপেক্ষা করে ছেড়েছে। বুধবারও (২৭ অক্টোবর) কয়েকটি ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশন থেকে গন্তব্যে ছেড়ে যেতে পারেনি।

এর আগে ২১ অক্টোবর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে সিলেটগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও এটি প্রায় ১ ঘন্টা দেরিতে ছেড়েছে। ২২ অক্টোবর সকাল ৯টার সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও ঢাকাগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেসও দেরিতে ছেড়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।  

প্রতিদিন চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে ১০ জোড়া ট্রেন যাওয়া-আসা করে। বুধবার (২৭ অক্টোবর) থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ১১ জোড়া ট্রেন যাওয়া-আসা করবে বলে জানা গেছে।

যাত্রীরা বলছেন, সড়কের যানজট এড়িয়ে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্য পৌঁছানোর জন্য সবাই ট্রেন যাত্রাতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কিন্তু এখন প্রতিদিনই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে।  

পূর্বাঞ্চল রেলের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হাসান মনসুর জানান, দুই প্রকল্পে ৬২৭ কোটি টাকায় কোরিয়ার হুন্দাই রেটেম থেকে ২০টি ইঞ্জিন কেনা হয়েছে। আরও ১০টি ইঞ্জিন কোরিয়া থেকে আসছে।  

২০২০ সালে আমদানি করা ১০টি মিটারগেজ ইঞ্জিনের ট্রায়াল রান শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ২টি ইঞ্জিন চালানো হয়েছে। নতুন ইঞ্জিনের গতিসীমা ১০০ কিলোমিটার। এই ৩০টি ইঞ্জিন যুক্ত হলে পূর্বাঞ্চল রেলে যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনে গতি আসবে বলে মনে করছেন রেল সংশ্লিষ্টরা।  

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জাফর আলম বাংলানিউজকে বলেন, লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) আসতে অনেক সময় একটু দেরি হয়। তেল, যন্ত্রপাতি চেকিং করা, ওয়াস করাসহ নানান কারণে ইঞ্জিন সংযুক্ত করতে দেরি হচ্ছে। তবে আমরা নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন ছাড়তে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৩০ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৭, ২০২১ 
বিই/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa