ঢাকা, বুধবার, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৮ মে ২০২২, ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

নিয়োগ পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার আবেদন গ্রহণ করেনি চবি

মোহাম্মদ আজহার, ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪২৯ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২২, ২০২২
নিয়োগ পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার আবেদন গ্রহণ করেনি চবি ...

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম না মেনেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল চবির এ নিয়োগ প্রক্রিয়া।

 

তিন পদের বিজ্ঞপ্তি দিলেও ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর মৌখিক পরীক্ষা শেষে পাঁচজনকে সুপারিশ করে সিলেকশন বোর্ড। এছাড়া সিলেকশন বোর্ডে বিভাগ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ শিক্ষক না রাখা, আবেদনের সময় স্বল্পতা, আবেদন করেও মৌখিক পরীক্ষায় ডাক না পাওয়া, উচ্চ আদালতের রুল নিষ্পত্তি না করেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন সহ নানান অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের নিয়োগ প্রক্রিয়া।  

গত বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর এ নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার আবেদন জানিয়ে চিঠি দিতে আসেন প্রভাষক পদে আবেদনকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোছাম্মৎ নাজমুন নাহার। তবে তার এ আবেদন গ্রহণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। উল্টো অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।  

আবেদনকারী নাজমুন নাহার বাংলানিউজকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার অফিস চলাকালীন সময়ে আমি আবেদনপত্রটি রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দিতে যাই। কিন্তু আমাকে প্রথমে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। বলা হয়েছিল রেজিস্ট্রার মিটিংয়ে আছেন। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা  আমাকে বসিয়ে রাখা হয়। এসময় সেকশন অফিসার আমাকে রেজিস্ট্রারের সঙ্গে দেখা করার আগে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতে বলেন। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসে থাকা সত্ত্বেও সেখানকার কর্মরতরা আমাকে বলেছেন, আমি যেন বলি ‘আমি এখন ঢাকায় আছি’। যদিও আমি বিষয়টি উপেক্ষা করেছি।

নাজমুন নাহার আরও বলেন, আমি যখন ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলাম, তিনি আমাকে বেশকিছু অপ্রাসঙ্গিক কথা শুনিয়েছেন। আমি এতে অপমানবোধ করেছি। সর্বোপরি আমি যাতে এ আবেদনটি না করি, এর জন্য তারা সবাই আমাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। শেষে রেজিস্ট্রার স্যারের (ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান) সঙ্গে দেখা করলে তিনি আমাকে বলেন, ‘আমি তো আপনার কথা শুনছিলাম এতক্ষণ, আপনি সরাসরি এখানে আসেননি কেন? অথচ অফিসাররা প্রথম থেকেই আমাকে বলছিলেন- রেজিস্ট্রার স্যার মিটিংয়ে আছেন।

নাজমুন নাহার বলেন, রেজিস্ট্রার স্যার আমার আবেদনটি দেখেছেন। তবে তিনি বলেছেন, বিষয়টি আগে খতিয়ে দেখবেন। এরপর জানাবেন। তিনি সোমবার (২৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত সময় নিয়েছেন। ওইদিন আমাকে দেখা করতে বলেছেন।  

নাজমুন নাহারের ওই আবেদনপত্রে বলা হয়, ‘আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে প্রভাষক পদে একজন আবেদনকারী। ২০১৯ সালের ১৬ মে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির আলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছয় সেট দরখাস্ত জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার সকল প্রকার যোগ্যতা পরিপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আমাকে কোনও ধরনের চিঠি পাঠানো হয়নি। আবেদনপত্রে আমার মোবাইল নম্বর থাকা সত্ত্বেও আমাকে সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে কোন ধরনের ফোন কল কিংবা বার্তা পাঠানো হয়নি। যার ফলে এ নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় আমি অংশগ্রহণ করতে পারিনি। তাই এ মৌখিক পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া আবশ্যক। আমি যাতে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারি, তাই এ পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার অনুরোধ জানাই। ’

নাজমুন নাহার বাংলানিউজকে বলেন, এটা আমার অধিকার। পুনরায় মৌখিক পরীক্ষা না নেওয়া হলে আমি প্রয়োজনে আইনের সহযোগিতা নেবো। এর জন্য উচ্চ আদালতে যেতে হলে সেখানেও যাবো।

চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান বলেন, একজন আবেদনকারী একটি চিঠি দিতে এসেছিলেন। তবে আমরা বিষয়টি আগে খতিয়ে দেখবো। আগামী সোমবার (২৪ জানুয়ারি) দেখা করতে বলেছি। এরমধ্যে আমি বের করবো, তিনি কেন মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের চিঠি পাননি। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলেও অফিস যেহেতু খোলা থাকবে, তিনি এসে দেখা করতে পারবেন।  
 
বাংলাদেশ সময়: ১৪২৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২২, ২০২২
এমএ/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa