ঢাকা, শুক্রবার, ৬ কার্তিক ১৪২৮, ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অর্থনীতি-ব্যবসা

আয়কর মেলায় করদাতারা উদ্বুদ্ধ

মসিউর আহমেদ মাসুম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০০৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১০

ঢাকা: আমরা উদ্বুদ্ধ। হয়রানিমুক্ত উৎসবমুখর পরিবেশে কর দিতে পেরে আমরা খুশি- জতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)’র আয়োজনে আয়কর মেলায় করদাতারা এমন অভিব্যক্তিই প্রকাশ করেছেন ।



তবে অনেকেই দাবি জানিয়েছেন রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর। আরও বড় পরিসরে বেশি সময় নিয়ে মেলা আয়োজনের দাবি করেন অনেকে। সেইসঙ্গে বছরে একাধিক বার এ মেলা আয়োজনের প্রস্তাব রাখেন কেউ কেউ।

বুধবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়কর মেলা ঘুরে করদাতাদের এসব উৎসাহ ও উদ্দীপনামূলক কথা-বার্তাই শোনা গেছে। তবে অভিযোগও আছে।

তাদের অভিযোগ, মেলায় সরকারি চাকরিজীবী করদাতাদের সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে না। এ সার্টিফিকেট নিতে তাদের দৌড়াতে হবে সংশ্লিষ্ট করাঞ্চলে।

এ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এনবিআরের বোর্ড সদস্য শম্ভুনাথ দাস বাংলানিউজকে বলেন, ‘এবারই প্রথমবারের মতো মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তাই হয়তো সব কিছু সুন্দরভাবে করা সম্ভব হয়নি। ’

তবে এবারের ত্রুটি শুধরে আগামীতে মেলা আরও ব্যাপক পরিসরে আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।

মিরপুরের মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রিয়াজুল ইসলাম মেলায় এসেছেন রিটার্ন জমা দিতে। তিনি গত তিন বছর ধরে আয়কর দিচ্ছেন। এবার আয় কম হওয়ায় তাকে কর দিতে হয়নি। শুধু রিটার্ন জমা দিয়েছেন।

রিয়াজ বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা ছুটি পাই না। করাঞ্চলে গেলে বলা হতো আজ নয়, কাল আসেন। সরকারকে ধন্যবাদ। কর্মকর্তারা হেল্প করছেন। ’

উল্লেখ্য, রিটার্ন জমা দিলে আর কর দিতে হয় না। রিটার্নে উল্লেখিত সম্পদ বা আয়ের বিবরণী হিসাব করে বার্ষিক আয় যদি ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বেশি হয়, তবে আয়ের ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

এ কর হার ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।

তবে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়কারীদের কর দিতে হবে ১৫ শতাংশ।

৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করের হার হবে ২০ শতাংশ এবং ২০ লাখ ১৮ হাজার ৪শ’ টাকা আয়ের জন্য কর দিতে হবে ২৫ শতাংশ করে।

তবে আয় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার কম হলে কর দিতে হবে না। তাই রিটার্ন ফর্ম জমা দিলেই কর দিতে হবে এ ধারণা ঠিক নয়।

আবার কেউ যদি সামাজিক কাজের (সোশ্যাল ইনভেস্টমেন্ট) আওতায় সম্পদ বা আয় বিনিয়োগ করে থাকেন, তাহলে এ বিনিয়োগে যে সম্পদ বা টাকা ব্যবহার করা হয়েছে তার জন্য কর রেয়াত পাওয়া যাবে। অর্থাৎ রিটার্নে এ সম্পদের বিবরণ থাকলেও এর জন্য কর দিতে হবে না।

আয়কর দিতে আসা বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা আতাউর রহমান খান বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমার আয়কর হয়েছে ৬ হাজার টাকা। আমার স্যোশাল ইনভেস্টমেন্ট আছে। তাই কর রেয়াত পেয়ে আমাকে কর দিতে হচ্ছে ২ হাজার ৪ শ’ টাকা।

তিনি বলেন, ‘আগে কর পরামর্শকের মাধ্যমে কর দিয়েছি। মেলায় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে শুনে নিজেরাই এসে পড়লাম। এখানে এসে অভিভূত হয়েছি। সেবা অসাধারণ। ’

রিটার্ন ফর্মে উল্লেখিত আয়ের বিবরণ হিসাব করার জন্য এনবিআরের ওয়েবসাইটে রিটার্ন ফর্ম ও হিসাব যন্ত্র (ক্যালকুলেটর) রয়েছে।

এসবের প্রশংসা করে আতাউর বলেন, ‘এর ফলে ওয়েবসাইট থেকে রিটার্ন ফর্ম নিয়ে ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে আমি নিজে নিজেই হিসাব করে ফেলেছি। আর কর রেয়াতের ব্যাপারটি এখানে এসে জেনেছি। ’

তিনি মনে করেন, এ সেবা ওয়েবভিত্তিক করা হলে অনলাইনে আরও বেশি করে কর দিতে উদ্বুদ্ধ হবে নতুন করদাতারা।

শাহজাহানপুরের জেরিন বিউটি পার্লারের মালিক রোকেয়া সুলতানা মেলা দেখে রীতিমতো মুগ্ধ। তিনি বলেন, ‘অনেকেই আসছে আয়কর দিতে। এটা যেন অব্যাহত থাকে। ’

অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘এ রকম মেলা বছরে কয়েক বার আয়োজন করা উচিত। ’

মেলা কমিটির সভাপতি ও করাঞ্চল-১’র কর কমিশনার এম এ কাদের সরকার বাংলানিউজকে বলেন,‘ মেলায় যে সাড়া পড়েছে তাতে আমরা অভিভূত। এবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামনে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হবে। ’

উল্লেখ্য, বুধবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ঢাকার আয়কর মেলায় টিন নম্বর দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার। টাকা জমা হয়েছে ৩৪ কোটি। আর রিটার্ন জমা পড়েছে ১ হাজার ২ শ’ ৫২টি।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫১ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa