ঢাকা, শুক্রবার, ৬ কার্তিক ১৪২৮, ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শিল্প

বাংলাদেশে ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপন করবে জেবিআইসি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২২৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৬, ২০১৯
বাংলাদেশে ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপন করবে জেবিআইসি জেবিআইসি’র প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী

ঢাকা: জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে একটি ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। 

তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর ক্রমবর্ধমান ইউরিয়া সারের চাহিদা বিবেচনা করে এটি স্থাপন লাভজনক হবে। নরসিংদী জেলার পলাশে বাস্তবায়নাধীন ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পের মতই উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রকল্প হবে এটি।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ সফররত জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) এক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে শিল্পমন্ত্রী একথা জানান।  

বৈঠকে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, জেবিআইসি’র নিউ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের মহাপরিচালক ফুমিউ সুজুকি, উপদেষ্টা ইয়াসুয়ুকি ইয়ামাতু, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান প্রতিনিধি ইয়াসুকি কমিনামি, বিসিআইসি’র পরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. আমিন উল আহসান এবং ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পের পরিচালক মো. রাজিউর রহমান মল্লিক উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের শিল্পখাতে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

নতুন সার কারখানা স্থাপনের প্রস্তাবকে ইতিবাচক উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর ক্রমবর্ধমান সারের চাহিদা মেটাতে সরকার উত্তরবঙ্গে একটি ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিসিআইসি ইতোমধ্যে উত্তরবঙ্গে একটি সার কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে প্রাক-সমীক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, সার কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে একটি পরিপূর্ণ প্রস্তাব পেশের জন্য প্রতিনিধিদলকে পরামর্শ দেন। বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষা করে জাপানের যে কোনো বিনিয়োগ প্রস্তাবকে সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রজেক্ট (জিপিইউএফপি)’ শেষ করতে জেবিআইসির কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন শিল্পমন্ত্রী।  

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য শিল্প মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরণের সময়ক্ষেপণ গ্রহণযোগ্য হবে না।

এ সময় জাপান প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানান, বাংলাদেশে ১৯৯০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি শিল্পখাতে বিনিয়োগ করে আসছে। এর মধ্যে কাফকো ফার্টিলাইজার প্রকল্প, ডিএপি ফার্টিলাইজার প্রকল্প এবং বিবিয়ানা গ্যাস ফায়ারড পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্পে বিনিয়োগের কথা তারা তুলে ধরেন।  

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আরও বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জেবিআইসি সবসময় পরিবেশ সংরক্ষণ এবং কার্যকর প্রযুক্তির প্রয়োগের প্রতি অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়ক, রেল ও বন্দর যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিকমিউনিকেশন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিখাতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠান সুষম আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে।

জেবিআইসি সম্প্রতি নরসিংদী জেলার পলাশে গৃহিত ‘ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রজেক্টে (জিপিইউএফপি)’ অর্থায়ন করছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের নিশ্চিয়তা পেলে তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিল্পখাতে আরও বিনিয়োগ করবেন বলে জানায়।

বাংলাদেশ সময়: ১৮২৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৬, ২০১৯
জিসিজি/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa