ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ ভাগাভাগি নিয়ে একটি চুক্তি, যা দুই দেশের ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জেলেনস্কি এই চুক্তিকে ‘একটি সূচনা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি আরও বিস্তৃত চুক্তি করতে চান— বিশেষ করে এমন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা যা রাশিয়ার সম্ভাব্য নতুন আগ্রাসন প্রতিহত করতে সাহায্য করবে। তবে ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব বেশি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে রাজি নয়; বরং তিনি মনে করেন, ইউরোপকেই এ বিষয়ে প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে।
ন্যাটো প্রসঙ্গেও ট্রাম্প তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, যদিও এটি জেলেনস্কির বহুদিনের স্বপ্ন। মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে যদি মার্কিন শ্রমিকরা বিরল খনিজ উত্তোলনের কাজ করে, তবে সেটাই এক ধরনের "স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা" দেবে ইউক্রেনকে।
তিনি আরও বলেন, কিয়েভের উচিত ন্যাটো সদস্যপদ নিয়ে ভাবা বন্ধ করা। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়ার সুরেই বলেন, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের প্রচেষ্টাই এই যুদ্ধের অন্যতম কারণ।
যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমরা রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে একটি চুক্তি করব যাতে মানুষ মারা যাওয়া বন্ধ হয়। তবে জেলেনস্কি তার বক্তব্যে সতর্ক ছিলেন। তার মতে, শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না, কিছুই টেকসই হবে না।
তিনি বলেন, আমি ন্যাটোর কোনো পথ বা অন্তত তার বিকল্প কিছু খুঁজতে চাই। যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে ইউক্রেন তার নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য এখনো দৃঢ়ভাবে একটি আন্তর্জাতিক কাঠামোর অংশ হতে চায়।
সূত্র: বিবিসি
বাংলাদেশ সময়: ০৯৩৭ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫
এমএম