ঢাকা: আট দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর ভূমিকম্পে হিমালয়কন্যা নেপালে অন্তত আশি লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
বিশ্ব সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) নেপাল, বাংলাদেশ ও ভারতে একযোগে আঘাত হানে শক্তিশালী এই ভূমিকম্প। উৎপত্তিস্থলে রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৯। মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস’র তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কাঠমাণ্ডুর অদূরে পোখরার কাছে লামজুং।
এরপর রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) নেপাল, বাংলাদেশ ও ভারতে আবারও একটি নতুন ভূমিকম্প আঘাত হানে। ইউরোপীয়-ভুমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) হিসাবে রিখটার স্কেলে এ কম্পনের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৫। তবে ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য মতে, এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭।
এরপর সোমবারও (২৭ এপ্রিল) ভূকম্পনে কেঁপে ওঠে নেপাল। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্যমতে এই কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ১।
এ নিয়ে গত তিন দিনে প্রায় ৬০টি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে হিমালয় পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত নেপালে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নেপালে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার হাজার তিনশ’ ১০ জনে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান রামেশ্বর দাঙ্গাল সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করলেও দেশটিতে আরো প্রচুর পরিমাণে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে জানায় জাতিসংঘ।
নেপালের ৩৯টি জেলার অন্তত আশি লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে বিশ্ব সংস্থাটি জানায়, এর মধ্যে অন্তত ১৪ লাখ মানুষের খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন।
এছাড়া অনেক মানুষই সুপেয় পানি ও চিকিৎসার অভাবে রয়েছে। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন বেশিরভাগ এলাকায় হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে বলে জানায় জাতিসংঘ।
বাংলাদেশ সময়: ১৪০০ঘণ্টা, এপ্রিল ২৮, ২০১৫
আরএইচ