ঢাকা: ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড) একটি প্রোটিন, যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে। এই নিউক্লিক এসিডের বিশেষ ক্ষমতার কথা জানালেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেন, মানুষের ডিএনএ ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যাপক পরিমাণে তথ্য ধারণ করতে পারে। শুধু তাই নয়, এটি তা দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় সংরক্ষণ করতে পারে, কোনো ধরনের ত্রুটি ছাড়া।
আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলনে সম্প্রতি এ ধরনের একটি গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা। হার্ডড্রাইভে যেভাবে আমরা তথ্য সংরক্ষণ করি ঠিক এইকভাবে ডিএনএ’র মধ্যে তথ্য সংরক্ষণ করে সম্প্রতি এ পরীক্ষা চালানো হয়।
ডিএনএ’র মধ্যে তথ্য সংরক্ষণের আরেকটি সুবিধা রয়েছে উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলেন, অন্তত দুই হাজার বছরের জন্য আপনি এর মধ্যে তথ্য সংরক্ষণ করতে পারবেন; যা নষ্ট হবে না।
আমাদের হার্ডড্রাইভগুলো যেভাবে তৈরি করা হয় তা মাত্র কয়েক দশক ধরে ভালো থাকে।
ডিএনএ’র মধ্যে তথ্য সংরক্ষণের বিষয়ে সুইজারল্যান্ডের একদল প্রকৌশলী বেশ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এ বিষয়ে তারা বলেন, আমাদের হার্ডড্রাইভ বর্তমানে সর্বোচ্চ ৫ টেরাবাইট (১ টেরাবাইট এক হাজার গিগাবাইট) ডাটা সংরক্ষণ করতে পারে (জিরো ও বাইনারি কোডের মাধ্যমে)।
যদি আমরা ডিএনএ’র মধ্যে তথ্য সংরক্ষণ করি তাহলে এর চারটি কেমিক্যাল নিউক্লিওটাইডস (এ, সি,জি, টি) ৩ লাখ টেরাবাইট তথ্য সংরক্ষণ করতে সক্ষম।
বিষয়টি এমন নয় যে, আপনার পরবর্তী কম্পিউটারটি ডিএনএ’র মধ্যে ডাটা সংরক্ষণ করবে। কারণ, এটি খুবই ব্যয়বহুল। তবে আশা করা যায়, ডিজিটাল আর্কাইভগুলো ডাটা সংরক্ষণে শিগগিরই ডিএনএ ব্যবহার করতে যাচ্ছে!
বাংলাদেশ সময়: ১১৩০ ঘণ্টা, আগস্ট ২৫, ২০১৫
জেডএস/