ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৭ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

চাঁদা একটা কালচারে পরিণত হয়েছে: আনিসুল ইসলাম

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০০২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৪
চাঁদা একটা কালচারে পরিণত হয়েছে: আনিসুল ইসলাম

 ঢাকা: চাঁদা একটা কালচারে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলের উপনেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। চাঁদাবাজদের মদদ না দিতে তিনি সংসদ সদস্যদের প্রতিজ্ঞা করার আহ্বান জানান।

রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ একটি পত্রিকার রিপোর্ট উল্লেখ করে বলেন, ‘চাঁদা দে, নইলে গুলি' এটি একটি গণমাধ্যমের হেডলাইন। যেখানে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে বলা হয়েছে। কিছু ঘটনা তারা লিখেছেন। একটি ঘটনা হচ্ছে, পশ্চিম মেরুল বাড্ডার শিরিন টাওয়ারের গলিতে ফুড কোর্ট নামে একটি ফাস্ট ফুডের দোকানের সামনে দ্রুত বেগে সাত থেকে আটটি মোটরসাইকেল থেমে যায়। মোটরসাইকেল থেকে ১০ থেকে ১২ জন নেমে ফাস্ট ফুডের দোকানে প্রবেশ করে। এদের মধ্যে এক যুবকের হাতে পিস্তল। দুই জনের হাতে ধারালো ছুরি। এরই মধ্যে পিস্তল হাতে থাকা যুবক দোকানের মালিক রায়হানের দিকে এগিয়ে যায়। চেঁচিয়ে বলে, ‘তোকে বলেছি যে ভাই ফোন দিয়েছিল। ১০ লাখ টাকা চেয়েছে। ’

তিনি আরও বলেন, তার কিছুদিন আগে মতিঝিল আওয়ামী লীগের সেক্রেটারিকে গুলি করে মারা হয়। তার স্ত্রী ডলি একজন কাউন্সিলর, তাকে এখনও নিয়মিতভাবে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য টেলিফোন হুমকি দেওয়া হয়।  

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, আজকে চাঁদা একটা কালচারে পরিণত হয়েছে। রাস্তা দিয়ে যখন পরিবহনের ট্রাকগুলো আসে সেখানে চাঁদা দিতে হয়। সেই চাঁদা যোগ হয় দ্রব্যমূল্যের সাথে। আপনি একটি বাড়ি করবেন সেখানে বালি কে দেবে, ইট কে সাপ্লাই দেবে, রড কে সাপ্লাই দেবে এগুলোর জন্য দিতে হয় চাঁদা। হয় চাঁদা দিতে দিতে হবে নয়তো তাদেরকে সেই সাপ্লাইয়ের কাজ দিতে হবে। আজকে চাঁদাটা ভয়ঙ্কর ব্যাধির আকার ধারন করেছে। খুবই গরিব হকারদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। চাঁদা নেওয়া হচ্ছে রিকশাওয়ালাদের কাছ থেকে। রিকশার যে স্ট্যান্ড সেখানে তাদের চাঁদা দিতে হচ্ছে। চাঁদা নেওয়া হচ্ছে সিএনজির যে মালিক, ড্রাইভার তাদের চাঁদা দিতে হচ্ছে। সমাজের প্রত্যেক জায়গায়, বিশ্ববিদ্যালয়েও আমরা অনেক কিছু দেখছি। এই চাঁদার যে কালচার ডেভলপ করছে এটার বিরুদ্ধে যদি আমরা একটা মুভমেন্ট না করি তাহলে আমাদের দেশের জন্য দুর্দিন সামনে আছে।

তিনি বলেন, আমার একটি পরামর্শ আছে যে আমরা যেই ৩৫০ জন আছি, আমরা যদি নিজেদের কাছে প্রতিজ্ঞা করি আমরা কোনো চাঁদাবাজকে মদদ দেবো না, সাহায্য করব না বরং তারা যদি এসব কাজ করে তাহলে তাদের প্রতিহত করব। তাহলে আমি মনে করি, হয়তো বাংলাদেশ থেকে চাঁদা নির্মূল করা যাবে না, কিন্তু অনেকখানি আমরা কমাতে পারব । আমি এই সংসদে দাঁড়িয়ে আমার যে সহকর্মীরা আছেন সেই সংসদ সদস্যদের কাছে আমার আবেদন চলুন আমরা এই একটা কাজে ঐক্যবদ্ধ হই। এখানে পয়সা খরচ হবে না। কোনো কিছু লাগবে না। কেবল আমরা প্রতিজ্ঞা করব এদেরকে মদদ দেবো না এবং যেখানে জানব সেটা প্রতিহত করব। এই কাজটি করলে আমরা মনে করি বাংলাদেশ অনেকখানি বেঁচে যায়। এই যে উন্নত দেশের স্বপ্ন আমরা দেখি, সেই স্বপ্ন হয়তো সেই উন্নত বাংলাদেশ গড়তে পারব।

বাংরাদেশ সময়: ২০০০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৪
এসকে/নিউজ ডেস্ক

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।