রোববার (১৩ অক্টোবর) নিহত ব্যক্তির স্ত্রী নাজমা বেগম বাদী হয়ে ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় ঝালকাঠি সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন, সদর উপজেলার বারইগাতি গ্রামের আব্বাস তালুকদার, ইছাহাক তালুকদার, সামসুল হক তালুকদার, ইয়াসিন তালুকদার, সুলতান তালুকদার, আবদুর রহিম ওরফে রাসেল ও নূরুল হককে আসামি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বাসন্ডা ইউনিয়নের লেশপ্রতাপ গ্রামের এক ব্যবসায়ী স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি খলিলুর রহমান মন্টুর বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন কেন্দ্র করে দেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে এসআই দেলোয়ার ইউপি সদস্য মন্টুর ওপর ক্ষিপ্ত হন।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে ঝালকাঠি শহরের তরকারিপট্টির একটি বাসায় দেখা করার কথা বলে মন্টুকে নিয়ে আটকে নির্যাতন চালানো হয়।
নির্যাতনে মন্টুর পা ভেঙে গেল সেই অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন এসআই দেলোয়ার। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে মন্টুকে কারাগারে পাঠানো হয়।
সবশেষ ২৯ সেপ্টেম্বর কারাগারে মন্টু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩ অক্টোবর রাতে মন্টুর মৃত্যু হয়। তবে এরমাঝে আরো একবার মন্টুকে অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো বলে মামলার বাদী নাজমা বেগম অভিযোগ করেন।
বাদীর আইনজীবী আবদুর রশীদ সিকদার সাংবাদিকদের জানান, ঘুষ দাবিতে মন্টুকে নির্মম নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের কারণে মন্টুর মৃত্যু হয়েছে। ঘুষ নেওয়া ও দাবি করায় দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের (৫)২ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯/১১৪/১৬১/৩০২/৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ০৪৪৫ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৫, ২০১৮
এমএস/এএ