ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯, ১২ আগস্ট ২০২২, ১৩ মহররম ১৪৪৪

জাতীয়

হবিগঞ্জে লোড শেডিংয়ের দুর্ভোগে ৬ লাখ গ্রাহক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৩৪ ঘণ্টা, জুলাই ৫, ২০২২
হবিগঞ্জে লোড শেডিংয়ের দুর্ভোগে ৬ লাখ গ্রাহক শাহজিবাজার পাওয়ার প্ল্যান্টের ফাইল ছবি

হবিগঞ্জ: জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গেল কয়েকদিনে জাতীয় গ্রীড থেকে এ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে চাহিদার বিপরীতে মাত্র এক তৃতীয়াংশ।

এতে জেলাজুড়ে লোড শেডিং ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছে।

সোমবার (৪ জুলাই) সারাদিন হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকাগুলোতে তিন থেকে চার ঘণ্টা লোড শেডিং হয়েছে। এজন্য দুর্ভোগে দিন কাটিয়েছেন জেলার ৯টি উপজেলার মানুষ।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, জেলায় তাদের গ্রাহক সংখ্যা পাঁচ লাখ ৬৩ হাজার। প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ১৬০ মেঘাওয়াট। জাতীয় গ্রীড থেকে কিছুদিন আগেও চাহিদার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ এখানে সরবরাহ হতো। কিন্তু গত সাত দিন ধরে সরবরাহ হচ্ছে ৩৯ থেকে ৫০ ওয়াট। যা চাহিদার তুলনায় এক তৃতীয়াংশের একটু বেশি। এ জন্য বাধ্য হয়েই লোড শেডিং করতে হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) অধীনে গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার। তবে চাহিদার বিপরীতে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ এখানে সরবরাহ হচ্ছে সেটি জানাতে নারাজ প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার বিপিডিবির আওতাভুক্ত হবিগঞ্জ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা লোড শেডিং হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় চার ঘণ্টারও বেশি সময় লোড শেডিং ছিল। এছাড়া জেলার ৯টি উপজেলায় লোড শেডিংয়ের পরিমাণ ছিল আরও বেশি। অনেক জায়গায় তিন থেকে চার বারে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় লোড শেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রামের আশিক মিয়া জানান, তার এলাকায় সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েকবারে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল। এ জন্য দিনভর দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

বানিয়াচং উপজেলার চিকিৎসক মুবিন ঠাকুর বলেন, দিনভর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। এ জন্য চেম্বারে আসা রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যহত হয়েছে।

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি আব্দুল আউয়াল তালুকদার বাংলানিউজকে বলেন, গ্যাসের স্বল্পতার কারণে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে হবিগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

হবিগঞ্জ বিপিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন সর্দারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে অন্য একজন কর্মকর্তা তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫২৮ ঘণ্টা, জুলাই ০৫, ২০২২
এফআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa