ঢাকা, বুধবার, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাতীয়

বরগুনায় পুলিশের পেশাদারত্বে ত্রুটি থাকলে ব্যবস্থা: ডিআইজি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮ ঘণ্টা, আগস্ট ১৬, ২০২২
বরগুনায় পুলিশের পেশাদারত্বে ত্রুটি থাকলে ব্যবস্থা: ডিআইজি

বরিশাল: বরগুনায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পিটুনির ঘটনা এরই মধ্যে খতিয়ে দেখতে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বরিশাল পুলিশ রেঞ্জ ও জেলার শীর্ষ কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান বলেন, বরগুনার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবগুলো বিষয় আমরা খতিয়ে দেখবো।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম একটা নির্দেশিকা হলো মানুষের তথ্যপ্রাপ্তি। মিডিয়ার সুবাদে বা যেভাবে হোক তথ্যগুলো মানুষ জেনে যাচ্ছে, এটা ভালো দিক। বরগুনার বিষয়টি আমিও দেখেছি এবং ডিআইজি হিসেবে সংবাদপ্রাপ্তও হয়েছি। আর আমরা যখন কোনো কিছু দেখি তখন আমাদের প্রশ্ন থাকে পেশাদারত্ব ঠিক আছে কিনা। আমাদের প্রত্যেকটি কাজ করার, প্রতেকটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছু পদ্বতি, প্রথা, গাইডলাইন রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে অনেকগুলো কমেন্টস পড়েছেন জানিয়ে ডিআইজি আক্তারুজ্জামান বলেন, জনগণের অনুভূতি বোঝার সুযোগ হয়েছে। আমি ওখানকার নেতৃবৃন্দের সাথে সরাসরি কথা বলেছি। এমপি সাহেবের সাথেও কথা বলেছি। ছাত্রলীগের দুটি ধারার নেতাদের সাথেই কথা বলেছি, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতিকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আমি অতিরিক্ত ডিআইজি এবং নতুন এসপিকে পাঠিয়েছি। তাদের সবার সাথে কথা বলতে বলেছি। প্রাইমেরি সিস্যুয়েশনটা অ্যাসেস করতে বলেছি। ওখানে যদি গোয়েন্দা তথ্যসহ কোনো অবহেলা থাকে বা আমাদের অপারেশনাল কোনো ত্রুটি থাকে বা আমাদের ব্রিফিংয়ের সমস্যা থাকে; এককথায় পেশাদারত্বে ত্রুটি থাকে, তাহলে সেগুলো আমরা চিহ্নিত করে সবার সাথে কথা বলে অবস্থা বুঝে সবকিছু অ্যাসেস করে ব্যবস্থা নেবো।

বরগুনার ঘটনায় পেশাদারত্ব বজায় ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কোন পরিস্থিতিতে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটা দেখতে হবে। আমার আরও ধৈর্য ধরার বিষয় ছিল কিনা, সেটাও দেখতে হবে না। আমাদের ব্যাকগ্রাউন্ড সার্চ করতে হবে, জানতে হবে কীসের পরিণতিতে এ ঘটনা ঘটলো। এসপিকে বলেছি পূর্ণ রিপোর্ট দিতে।

ইউনিফর্ম ছাড়া পুলিশ সদস্য অবস্থান ও তাদের হাতে লাঠি থাকার প্রসঙ্গে ডিআইজি আক্তারুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলে কিছু ছেলে (পুলিশের সদস্য) ছিল, যাদের ইউনিফর্ম ছিল না। ছুটির দিন থাকলে অনেকের ইউনিফর্ম থাকে না, তবে কেন ছিল না সেটা জানতে হবে। পোশাক পড়ার বিষয়ে আমাদের ম্যানুয়াল রয়েছে।

তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে যে ঘটনা ঘটে, সেটা দূর থেকে আমরা একভাবে দেখি এবং মাঠ থেকে তারা আরেকরকম দেখে। বরগুনায় অনেকে বলার চেষ্টা করছেন, পুলিশ ভালো কাজ করেছে। আবার অনেকে বলছেন, ভালো কাজ করেনি। ভোলায়ও এরকম হয়েছে। তবে এগুলো নাটকের মতো ঘটনা নয় যে, একটার পর একটা ঘটছে কিংবা ঘটবে।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলীকে নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। তাকে বরিশালে আনা হয়েছে দুটি কারণে। একটি হলো তার কোনো বক্তব্যে নতুন করে যেন সে বিপদে না পড়ে আর একটি হলো নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে। তদন্ত শেষ হলে তার কী হবে, তা ওপর থেকে সিদ্ধান্ত আসবে।

অন্যদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বলছেন, বরগুনা নয়, গোটা দেশবাসী পুলিশের এমন পিটুনি আগে কখনো দেখেনি। পুলিশ নিজেদের লাঠি নয়, লাকড়ি, প্লাস্টিকের পাইপ, পাইপের মাথায় লোহার সকেট ব্যবহার করেছে। আবার একজন এমপি ও দুজন অ্যাডিশনাল এসপির সামনে যুবলীগ কর্মীকে গণহারে মারধরের দৃশ্যে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের চেইন অব কমান্ড নিয়ে।

বাংলাদেশ সময়: ২০১৭ ঘণ্টা, আগস্ট ১৬, ২০২২
এমএস/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa