ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

তারার ফুল

‘সাড়ে তিন মিনিটের ভিডিওর জন্য ১১ ঘণ্টার ফুটেজ’

সোমেশ্বর অলি, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭২৪ ঘণ্টা, জুন ২৫, ২০১৬
‘সাড়ে তিন মিনিটের ভিডিওর জন্য ১১ ঘণ্টার ফুটেজ’ গাজী শুভ্র

‘ভিজিট বাংলাদেশ’ প্রচারণার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে তুলে ধরে নির্মিত একটি নতুন ভিডিও প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পযর্টন বোর্ড। এর নাম ‘লাইফ হ্যাপেনস হিয়ার’।

আবহমান গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এবং জীব-বৈচিত্র্যকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এতে। এটি নির্মাণ করে আলোচনায় এসেছেন গাজী শুভ্র। বাংলানিউজের সঙ্গে শনিবার (২৫ জুন) কথা বলেছেন তিনি।

বাংলানিউজ: ‘ভিজিট বাংলাদেশ’ তৈরির অভিজ্ঞতা কেমন?
গাজী শুভ্র:
দেশের জন্য কাজ করার অভিজ্ঞতা সবসময়ই সুন্দর। আমাদের উন্নত যন্ত্রপাতির অভাব থাকলেও ভিডিওটির কাজে আমরা অন্য দেশের সহযোগিতা নিইনি। নিজেদের সামর্থ্য আর ভালোবাসা দিয়ে এটি বানানো হয়েছে। এটা সম্পূর্ণভাবে একটি টিমওয়ার্ক বলবো। বিশেষ করে ক্যামেরায় রাশেদ জামানকে পেয়ে আমরা কাজটা আরও সুন্দরভাবে শেষ করতে পেরেছি। আমরা কয়েক ধরনের ক্যামেরা ব্যবহার করেছি। এর মধ্যে অন্যতম আরি অ্যালেক্সা।

বাংলানিউজ: এর আগে আপনার বানানো ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ বেশ প্রশংসিত হয়েছিলো। দুটি কাজের মধ্যে পার্থক্যগুলো কী কী?
শুভ্র:
২০১১ সালে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ তৈরির জন্য। একজন বিদেশির চোখে আমার দেশের চিত্রটা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলাম। এরপর আরও দুটি কাজ করেছেন অমিতাভ রেজা ও গিয়াসউদ্দিন সেলিম। তিনটি কাজই প্রায় কাছাকাছি ছিলো। কয়েক বছর পর মন্ত্রণালয় থেকে ‘ভিজিট বাংলাদেশ’-এর জন্য আমাকে ডাকা হলো। এটাতে আগের মতো কোনো মডেল রাখিনি। এই কাজটা অনেকটা ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফির মতো। রিয়েল লাইফ মানুষ ও তাদের অভিব্যক্তি তুলে ধরা হয়েছে। আমরা কোনো চিত্রনাট্য অনুসরণ করিনি। দুই সেকেন্ডের দৃশ্যের জন্যও প্রচুর খাটতে হয়েছে।      

বাংলানিউজ: একটা উদাহরণ দিন।
শুভ্র:
অনেক জায়গায় যেতে হয়েছে আমাদেরকে। ক্যামেরা বহন করা যাবে না এমন সব দুর্গম পথও ছিলো। যেমন নাফাকুম ঝরণার দৃশ্যধারণ করতে আমরা কি-না করেছি! প্রথমে গেলাম বান্দরবান, সেখান থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার পথে থানচি। পাঁচটি নৌকায় পুলিশসহ আড়াই ঘণ্টায় রিমাক্রি। সেখান থেকে হাঁটাপথে ৪০ কিলো গিয়ে পাওয়া গেলো নাফাকুম ঝরণা। বিজ্ঞাপনে রাখতে পেরেছি দুই সেকেন্ড। এমন অনেক উদাহরণ আছে। সাড়ে তিন মিনিটের ভিডিওর জন্য আমরা প্রায় ১১ ঘণ্টার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ৫৮টি লোকেশন, তার পাশের সুন্দর জায়গাসহ ১০০টি স্থান দেখিয়েছি। পর্যাপ্ত আলো না পাওয়ায় অনেক দৃশ্য বাদ দিতে হয়েছে। রাত, হরিণ, পূজা ও বায়তুল মোকাররমের দৃশ্য নেওয়ার জন্য আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।  

বাংলানিউজ: কাজটি করতে কতোদিন সময় লেগেছে?
শুভ্র:
শুটিং শুরু করি ২০১৫ সালে। এ বছরের শুরুতে কাজ মোটামুটি শেষ করে ফেলেছিলাম। শুটিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করে রাখিনি। যখন যেখানে যাওয়ার জন্য দরকার মনে করেছি সেখানে গিয়েছি।

বাংলানিউজ: ‘ভিজিট বাংলাদেশ’ নিয়ে নিশ্চয়ই ইতিবাচক মন্তব্য পাচ্ছেন?
শুভ্র:
যে কোনো মন্তব্যকে সহজভাবে গ্রহণ করি। এটার ক্ষেত্রে ইতিবাচক মন্তব্যই আসছে। তবে আরও কিছুদিন গেলে বোঝা যাবে। আমার পর্যবেক্ষণ বলে, কারও সন্তান হলে সবাই প্রশংসাই করতে চায়, সন্তানের দোষত্রুটির কথা বলে না। আবার অনেক ভালো খেলোয়াড় খেলায় খারাপ করলে তার সমালোচনা করতেও ছাড়ি না।

বাংলানিউজ: বিজ্ঞাপন তো অনেক বানিয়েছেন...
শুভ্র:
এখন পর্যন্ত ৪০০ বিজ্ঞাপন তৈরি করেছি। আমার কাছে প্রতিটি কাজই নিজের সন্তানের মতো। এখনও নতুন কোনো কাজ করতে গেলে ভাবি- এটাই আমার প্রথম।

বাংলানিউজ: আজকাল মিউজিক ভিডিও কম বানাচ্ছেন?
শুভ্র:
আমার যাত্রা শুরু হয়েছিলো মিউজিক ভিডিও দিয়েই। সুযোগ থাকলে সারাজীবন মিউজিক ভিডিও বানাতাম। কিন্তু সম্ভব নয়। এখন নানা কারণে এ নিয়ে কম কাজ করছি। গত বছর প্রকাশিত বাপ্পা মজুমদার ও নদীর গাওয়া গানটিই এখন পর্যন্ত আমার বানানো সবশেষ মিউজিক ভিডিও।

বাংলানিউজ: ইদানীং প্রচুর মিউজিক ভিডিও হচ্ছে…
শুভ্র:
আমার মতে, ইন্ডাস্ট্রি বড় হলেও ভিডিও নির্মাণে বাজেট বাড়েনি। এক সময় নিজের পকেটের টাকা খরচ করে মিউজিক ভিডিও বানিয়েছি। এখন আর সেই বাস্তবতা ও সুযোগ নেই। কারণ রেডডটের অনেক ধরনের কাজ আছে। সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা আছেন। তাদের মাস শেষে বেতন দিতে হয়। তবে এটা সত্যি, সময়-সুযোগ পেলে ভালো গানের ভিডিও তৈরি করতে চাই।

* ‘ভিজিট বাংলাদেশ’ প্রচারণার নতুন ভিডিও ‘লাইফ হ্যাপেনস হিয়ার’ দেখুন :

বাংলাদেশ সময়: ১৭১৯ ঘণ্টা, জুন ২৫, ২০১৬
এসও/জেএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa