ঢাকা: সরকারের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা সারা দেশে তিন দিনের অবরোধে কোনো প্রভাব পড়েনি প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ের কাজকর্মে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ঘুরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক উপস্থিতি দেখা গেছে। এদিকে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধ সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে।
সচিবালয় ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। কর্মকর্তারা নিদিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। এদিন সচিবালয়ের আশপাশের রোডে গাড়ি চলাচল ছিল স্বাভাবিক। আজ সচিবালয়ে চারটি গেইট খোলা ছিল। তবে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। প্রবেশ গেইটগুলোয় অন্যান্য দিনের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। সচিবালয়ে সামনের সড়কে গাড়ি পার্কিংও ছিল স্বাভাবিক।
এদিকে অবরোধ চলায় সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি তেমন দেখা যায়নি। এজন্য ফাঁকা দেখা গেছে এক ও দুই নম্বর গেটের মাঝামাঝি অবস্থিত দর্শনার্থী অপেক্ষা কক্ষ। সচিবালয়ের লিফটগুলোর সামনেও ভিড় দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে সচিবালয়ে দায়িত্বরত পুলিশের একজন সদস্য জানান, অন্যান্য দিনের মতো সকাল থেকেই আমরা তৎপর রয়েছি। অবরোধের জন্য সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। অযথা সচিবালয়ে সামনে ভিড় করতে দেওয়া হচ্ছে না। সন্দেহ চলে তল্লাশি করা হচ্ছে। কার্ড দেখে দেখে সবাইকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, বিএনপি-জামায়াতের ৭২ ঘণ্টা অবরোধ শুরু হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোথায় অবরোধ নেই, সব কিছু ঠিকই আছে৷ রাস্তায় যানবাহন চলছে, বেচা কেনা শুরু হয়েছে, সাধারণ মানুষ যে যার কর্মস্থলে যাচ্ছে। আমাদের মন্ত্রণালয়ে প্রায় সবাই সঠিক সময়ে উপস্থিত হয়েছে। নিদিষ্ট সময়ে কোনো রকমের ঝামেলা ছাড়াই অফিসে আসতে পেরেছি। দুই এক জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।
সচিবালয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সব কিছু স্বাভাবিক আছে। যানবাহন চলছে, দোকানপাট খুলেছে। সকাল থেকেই সচিবালয়ে কর্মীদের আসা শুরু হয়েছে। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই এসে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই গণপরিবহনসহ সব ধরনের যানবাহন চলছে। সকালে কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। ভোরের দিকে দুই এক জায়গায় বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য দিনের মতো সকালে দোকানপাট না খুললেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দোকানপাট খুলেছে ব্যবসায়ীরা। অবরোধের মধ্যে যানবাহন চলাচল করায় মানুষ বিনাবাধায় নিজ নিজ কর্মস্থলে যাচ্ছে।
দূরপাল্লার বাসের সংখ্যা একেবারে কম থাকলেও ঢাকার গুলিস্তান থেকে ভাঙ্গা, শরীয়তপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল করছে।
উল্লেখ্য, ঢাকায় ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশে হামলা, নেতাকর্মীদের হত্যা, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আন্দোলনরত বিভিন্ন দলের সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, হয়রানি ও নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি ডেকেছে বিএনপি। তাদের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি, এবি পার্টিসহ কয়েকটি দল-জোটও এ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা বা সমর্থন দেয়।
কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, রাজপথ, নৌপথ, সড়ক-মহাসড়ক, রেলপথ-সর্বাত্মক অবরোধ চলবে। রাজধানীর সঙ্গে জেলার, জেলার সঙ্গে উপজেলা, উপজেলার সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়নের যে মূল সংযোগ; অর্থাৎ মূল সড়কসহ সব সড়কে অবরোধ থাকবে। তেমনি রেল ও নৌপথগুলোয়ও অবরোধ হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১২৪৩ ঘণ্টা, অক্টোবর ৩১, ২০২৩
জিসিজি/এসআইএ