ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৮ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

শহীদ নূর হোসেন দিবস শুক্রবার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০ ঘণ্টা, নভেম্বর ৯, ২০২৩
শহীদ নূর হোসেন দিবস শুক্রবার

ঢাকা: বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় নাম নূর হোসেন। সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অনেক চড়াই-উৎরাই আর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়েছে।

সেই আন্দোলনে আত্মত্যাগ করে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন শহীদ নূর হোসেন।

শুক্রবার (১০ নভেম্বর) শহীদ নূর হোসেন দিবস। নূর হোসেনের এ মহান আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন সংঘটিত হয় তার একটি বড় অংশ ছিল সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭ সালের এদিনে তৎকালীন স্বৈরশাসক লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ নেতা নূর হোসেন শহীদ হন। এদিন সিপিবির গণসংগঠন ক্ষেতমজুর সমিতির নেতা আমিনুল হুদা টিটোও শহীদ হয়েছিলেন।

এরশাদের সামরিক স্বৈরশাসনের অবসানে গড়ে ওঠা রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭ সালের ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হয়। ওইদিন এরশাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নামেন। রাজধানী ঢাকার রাজপথে স্বৈরাচারের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নূর হোসেন আত্মাহুতি দেন।

সেদিন নূর হোসেন তার বুকে-পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান লিখে মিছিলে অংশ নেন। ওই মিছিলে রাজধানীর জিরো পয়েন্টে (জিপিওর সামনে) পুলিশ নূর হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সঙ্গে সঙ্গে রাজপথে লুটিয়ে পড়েন তিনি। শহীদ নূর হোসেনের মহান আত্মত্যাগের এ দিবসটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় ও বিরল ঘটনা। ওইদিন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সমর্থিত গণসংগঠন ক্ষেতমজুর সমিতির নেতা আমিনুল হুদা টিটোও পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন। রাজধানীর পুরানা পল্টনে পুলিশ গুলি চালালে টিটো নিহত হন।

এদিকে শহীদ নূর হোসেনের রক্তদানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন স্বৈরাচারী এরশাদবিরোধী আন্দোলন নতুনমাত্রা পায়। সর্বস্তরের মানুষ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে এবং ওই আন্দোলন আরও বেগবান হয়ে ওঠে। রাজপথে গড়ে ওঠে ছাত্র-জনতার দুর্বার গণআন্দোলন। সেই আন্দোলন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে, শহর থেকে গ্রাম, গ্রামান্তরে। ছাত্র-জনতার দুর্বার গণ-আন্দোলনে স্বৈরাচারী এরশাদের পতন ত্বরান্বিত হতে থাকে। অব্যাহত লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরশাসক তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বাধ্য হয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিবছর এ দিবসটিকে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করে এবং শহীদ নূর হোসেনকে স্মরণ করে। এদিন আমিনুল হুদা টিটোকেও স্মরণ করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে শহীদ নূর হোসেনের আত্মত্যাগের দিবসটিকে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালনের জন্য আওয়ামী লীগ ও এর সব সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ০০০১ ঘণ্টা, নভেম্বর ১০, ২০২৩
এসকে/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।