ঢাকা, রবিবার, ১০ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৩ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

টিউবওয়েল-টয়লেট নেই ভোলার দত্তবাড়ী বিদ্যালয়ে

ছোটন সাহা,ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২০৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
টিউবওয়েল-টয়লেট নেই ভোলার দত্তবাড়ী বিদ্যালয়ে ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ভোলা: জরাজীর্ণ টিনশেড ভবন, ঝ‍ুঁকিপূর্ণ ক্লাস রুম, খেলার মাঠ ও অবকাঠামো সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত ভোলা সদরের কাচিয়া দত্তবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

দীর্ঘদিন থেকে বিদ্যালয়টিতে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, টিউবওয়েল, টয়লেট-বাথরুম ও খেলার মাঠ।

পড়ালেখা করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতায় ভুগতে হয় শিক্ষার্থীদের।

প্রচীন এ বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ছয় যুগ ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বিশেষ অবদান রাখলেও বর্তমানে অনেক কষ্ট করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান করতে হচ্ছে। এসব সমস্যা ও সংকটের কারণে স্কুলের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কবে নাগাত বিদ্যালয়ের এ সমস্যার সমাধান হবে তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

জানা গেছে, ১৯৪৫ সালে সদরের কাচিয়া ইউনিয়নের খড়কি গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় দত্তবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।
 
শুরু থেকেই শিক্ষকদের আন্তরিকতায় ভালোমানের পড়ালেখা হয়ে আসছে এ বিদ্যালয়ে। কিন্তু বছর তিনেক আগে মেঘনার ভাঙনের ফলে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর শাহমাদার গ্রামে অস্থায়ী টিনশেড ভবনে স্কুলের পাঠদান চলে আসছে। তবে, জরাজীর্ণ ভবনেই রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনেক কষ্ট করে প্রায় ২শ’ শিক্ষার্থীকে পড়ালেখা করতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, সামান্য বৃষ্টি হলে ফুটো চাল দিয়ে পানি ঢুকে বই খাতা ভিজে যায়। গরমে ক্লাস করা দুষ্কর। টিউবওয়েল না থাকায় দূর-দূরান্তে গিয়ে পানি পান করতে হয়।

অভিভাবকরা জানান, স্কুলটি এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নে ভূমিকা পালন করছে। ভালো পড়ালেখা হওয়াতে বিদ্যালয়ে ছেলে মেয়েদের ভর্তি করানো হয়। কিন্তু নানা সমস্যা থাকায় একদিকে যেমন ছাত্র-ছাত্রীদের কষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে শিক্ষকরাও ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন।

এদিকে, বিদ্যালয়ে নেই খেলার মাঠ, যেটুকু রয়েছে তাও কাদা-পানিতে পরিপূর্ণ। নেই বাথরুম-টয়লেট। এতে দিন দিন সমস্যা বেড়েই চলছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, স্কুলের পুরো টিনশেড ভবনের জীর্ণদশা। চালা ফুটো হয়ে গেছে। টেয়ার-টেবিল ও বেঞ্চগুলোর নাজুক অবস্থা। জানালা-কপাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। এ অবস্থায় দীর্ঘ তিন বছর ধরে পাঠদান চলে আসছে বিদ্যালয়ে।

এদিকে, শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষকদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হয়। কিন্তু অবকাঠামো উন্নয়ন কিংবা সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের নজরদারি নেই বলে অভিযোগ অভিভাবক ও শিক্ষকদের।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লুৎফর নেছা শিউলি ও নুরুল আমিন বলেন, বিদ্যালয়ে অনেক সমস্যা রয়েছে। তবুও আমরা বহু কষ্ট করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছি।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার খোন্দকার জসিম আহম্মেদ বলেন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। খুব শিগগিরই এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১২০৮ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।