ঢাকা, রবিবার, ২৫ মাঘ ১৪৩১, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

লিটন গোয়ালার গরুর খাঁটি দুধ!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪৩৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ৭, ২০১৭
লিটন গোয়ালার গরুর খাঁটি দুধ! লিটন গোয়ালার দুধ কিনতে ক্রেতাদের ভিড়

ময়মনসিংহ: শহুরে জীবনে গরুর দুধ পাওয়াটা বেশ দুষ্কর। এ জামানায় শিশুদের খাওয়ার জন্য নির্ভর করতে হয় প্যাকেটজাত তরল দুধ কিংবা গুঁড়ো দুধের ওপর। কিন্তু তাতে কি তৃপ্তি মেটে! যান্ত্রিক জীবনে গরুর দুধই বা মিলবে কী করে। মিষ্টি বানানোর কারিগররা আগেভাগেই চুক্তি করে নেন গোয়ালাদের সঙ্গে।

ফলে ব্যস্ত নাগরিক জীবনে রোজ রোজ গাভীর খাঁটি দুধের স্বাদ যেন ভুলতেই বসেছেন। এমন বাস্তবতায় পুরোপুরি বিপরীত চিত্র দেখা গেলো শুক্রবার (০৭ এপ্রিল) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর নিউ মার্কেট দুধ মহল এলাকায়।

শাটার বন্ধ একটি দোকানের সামনে ক্যান নিয়ে বসে দুধ বিকোচ্ছিলেন লিটন নামে এক গোয়ালা। মধ্যবয়সী ওই গোয়ালাকে পঙ্গপালের মতো ঘিরে ধরেছেন কিশোর, গৃহিণী থেকে শুরু করে বাড়ির কর্তারাও।

কার আগে কে দুধ নেবেন এ নিয়ে শুরু হলো কাড়াকাড়ি। চলছে বাকযুদ্ধও। ফলশ্রুতিতে ৯০ লিটার দুধ তিনি বিক্রি করলেন মাত্র ২০ মিনিটে। এরপর আবারও শুরু হলো ৭০ টাকা প্রতি লিটার দামে দুধের জন্য হাহাকার!

এ সময় লিটনের গরুর দুধের গুণকীর্তন শোনা গেলো ক্রেতাদের কণ্ঠে। তাদেরই একজন মারুফা আলম। নিজের সন্তানদের মুখে দুধ তুলে দিতে এদিন ছুটে এসেছেন তিনি।

গৃহিণী মারুফা আলম জানান, প্রায় ১০ বছর যাবত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তিনি নিউ মার্কেট এলাকা থেকে তরল দুধ কিনছেন। এদিন তিনি কিনেছেন ৭ লিটার দুধ।

লিটন গোয়ালার কাছ থেকে কেনা এ দুধের বিশেষত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এ দুধে পানি মেশানো হয় না। ১০ মিনিটের মধ্যেই অনেক সর পড়ে। চুমুক দিতেই আহ কী স্বাদ!

মারুফার সঙ্গে আলাপের সময়েই যেন আগ বাড়িয়ে এগিয়ে এলেন কবিরাজ প্রতাপ চন্দ্র সরকার। তিনিও লিটনের দুধের একনজন ক্রেতা। একইসঙ্গে ভক্তও।

তিনি জানান, বাসা-বাড়িতে যারা কাঁধে বা হাতে ক্যানে করে দুধ বিকোন তাদের দুধ ভেজালে ভরা। সেই দুধের কোনো স্বাদ নেই। কিন্তু লিটনের সরবরাহকৃত দুধ ব্যতিক্রম। স্বাদে ভরপুর।

লিটন গোয়ালার বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেলতলী এলাকায়। তার নিজের ৫টি গাভী রয়েছে। এসব গাভী থেকে প্রতিদিন ২৫ লিটার দুধ পাওয় যায়। আর বাদ বাকি দুধ তিনি সরবরাহ করেন আশেপাশের গোয়ালাদের কাছ থেকে। সরবরাহকৃত এ দুধ নিয়েই তিনি হাজির হন নিউমার্কেট এলাকায়।

লিটন গোয়ালা জানান, দুধের সঙ্গে পানি মেশানোর মতো প্রতারণার কাজটি আমি করি না। আমার বাপ-দাদারা প্রায় ৫০ বছর যাবত দুধ বিক্রি করছেন। বংশানুক্রমে আমিও একই পেশা বেছে নিয়েছি।

নিজের বেচা দুধ সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি জানান, দুই/তিনবার ভ্রাম্যমাণ আদালত আমাকে ধরেছিল। কোনো ভেজাল দুধ পায়নি। তবে দুধের ক্যানে কলাপাতা রাখায় তা সরিয়ে দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নগরীর প্যাকেটজাতীয় তরল দুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, মিষ্টির দোকান ও বেকারি শপগুলো গোয়ালাদের কাছ থেকেই অগ্রিম টাকা দিয়ে দুধ কিনে নেন। এ কারণে দুধ নিয়ে গোয়ালারা আর নগরীর বাসা-বাড়িমুখী হন না। ফলে দুধের স্বাদ মেটাতে তাদের সপ্তাহের এদিনে ছুটে আসতে হয় নিউমার্কেট দুধ মহলে।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩৪ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৭, ২০১৭
এমএএএম/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

জাতীয় এর সর্বশেষ