মঙ্গলবার (০৯ মে) বিকেলে কুমিল্লা ডিবি পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করে।
গ্রেফতার জুলহাস দাউদকান্দি উপজেলার পেন্নাই গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে।
মামলার অভিযোগ ও ডিবি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৮ নভেম্বর সকালে জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারে তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনির হোসেন ও তার সহযোগীদের বহনকারী মাইক্রোবাসে সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে তাদের মারাত্মক জখম করে। তাদের আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর চেয়ারম্যান মনির হোসেন ও তার গাড়ি চালক মহিউদ্দিন মারা যান।
এ ঘটনায় ওইদিন রাতে নিহত চেয়ারম্যানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে দাউদকান্দি থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরদিন মামলাটি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখায় স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পর থেকে প্রধান আসামি জুলহাস দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেন। এরইমধ্যে তিনি কয়েক দফায় স্থান পরিবর্তন করে আশ্রয় নেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ এলাকায়।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে ডিবির এসআই শহিদুল ইসলামসহ একটি টিম রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ থেকে তাকে (জুলহাস) গ্রেফতার করে। পরে অপর আসামিদের ধরতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম জানান, ওই জোড়া খুনে জড়িত অন্যদের নাম ও ঘটনার কারণ বর্ণনা করে প্রধান ঘাতক জুলহাস মঙ্গলবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আরাফাত উদ্দিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুসারে জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এ নিয়ে ওই জোড়া খুনের মামলায় ৪ এজাহার নামীয়সহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে মামলায় অভিযুক্ত আসামি সাঈদ ও মোহাম্মদ আলীকে গত ১ এপ্রিল দুপুরে ক্ষুব্ধ মনির চেয়ারম্যানের সমর্থকরা দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর উত্তর বাজার এলাকায় পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুন করে।
বাংলাদেশ সময়: ২১২০ ঘণ্টা, মে ০৯, ২০১৭
জেডএস