এদিকে, আসামিদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় নিশ্চিত হতে পেরেছে পুলিশ। ধর্ষণে জড়িত একজনসহ সহযোগী দু’জনের নামপরিচয় পাওয়া গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত ২৮ মার্চ বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে সাফাত আহমেদ নামে এক বন্ধুর জন্মদিনে যোগ দিতে গিয়েই বন্ধুদের যোগসাজশে ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই তরুণী। ঘটনায় ৪০দিন পর ৬ মে (শনিবার) সন্ধ্যায় বনানী থানায় ৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন ওই দুই তরুণী।
আসামিরা হচ্ছেন- সাদমান সাকিফ (২৪), তার বন্ধু সাফাত আহমেদ (২৬), নাঈম আশরাফ (৩০), সাফাতের ড্রাইভার বিল্লাল (২৬) ও তার দেহরক্ষী অজ্ঞাতপরিচয়।
এদের মধ্যে সাফাত আহমেদ আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে ও সাদমান সাকিফ রেগনান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসাইন জনির ছেলে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, বাকি তিন আসামির পূর্ণাঙ্গ পরিচয় না পেলেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলায় বর্ণিত অজ্ঞাতপরিচয় ওই দেহরক্ষীর নাম আজাদ।
আসামিদের গ্রেফতারে ইতোমধ্যে ঢাকা, সিলেটসহ দেশের কয়েকটি স্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে, তাদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আব্দুল মতিন বাংলানিউজকে বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি খুব শিগগিরিই গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
সরাসরি ধর্ষণে অভিযুক্ত নাঈম আশরাফের পরিচয়ের বিষয়ে সম্ভাব্য কয়েকটি নাম পাওয়া গেছে। তবে, কোনটি তার বাবার নাম সেটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, সাফাত গুলশানের ৬২ নম্বর রোডের যে বাড়িতে থাকে তার দায়িত্বে থাকা মেহেদী হাসান বাংলানিউজকে জানান, গত রোববার (০৭ মে) বাসায় এসেছিলেন তিনি। সোমবার (০৮ মে) সকালে তার কালো রঙের মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যান।
‘এর আগে তিনি প্রায়ই বাসায় আসতেন। তবে, মামলার পর থেকে সাফাত স্যার আর বাসায় আসেন নি। ’ তবে, সাফাতের দেহরক্ষী আজাদ কোথায় আছেন, জানেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেহরক্ষী আজাদ এখানে নেই। আজাদ মাস দুয়েক আগে এখানে চাকরি নেয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, আজাদ চাকরিতে যোগদানের পর থেকে সে সব সময় সাফাতের সঙ্গেই থাকতো। বাসা থেকে যখন সাফাত পালায় তখন ওই দেহরক্ষী আজাদও তার সঙ্গে পালিয়ে যায়।
যেখানেই আছেন তারা দু’জন একসঙ্গে আছেন বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।
এদিকে, মঙ্গলবার (০৯ মে) দুপুরে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ তার গুলশানের বাসা থেকে বের হওয়ার সময় গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘আমার ছেলে ব্লাকমেইলের শিকার। ওকে ফাঁসানো হয়েছে। ’
‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের জেনারেল ম্যানেজার ফ্রাংক ফরগেট বাংলানিউজকে জানান, আমরা শুনেছি যে ধর্ষণ সংক্রান্ত একটি ঘটনা নাকি আমাদের এখানে সংঘটিত হয়েছে। তবে, ওই দিন আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। আমরাও কোনো চিৎকার বা কান্নাকাটির শব্দও শুনিনি।
ঘটনার তদন্তে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে বলেও জানান রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার।
বাংলাদেশ সময়: ১১০৩ ঘণ্টা, মে ১০, ২০১৭
এসজেএ/ওএইচ/এসএইচ