দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে সুনাম, চাহিদা ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপেও। তাই আমচাষিরাও বালাইমুক্ত নিরাপদ আম নিশ্চিত করতে বাগানে বাগানে ব্যবহার করছেন ব্যাগিং পদ্ধতি।
এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে রপ্তানি হতে চলেছে মেহেরপুরের আম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ বছর ২২শ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশই হিমসাগর। ইউরোপে আম রপ্তানির জন্য জেলার ৬৫ জন আমচাষির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এসব চাষি ব্যাগিং পদ্ধতিতে আমের চাষ করেছেন। মেহেরপুর থেকে কীটনাশকমুক্ত আমে গতবছর প্রথম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হওয়ায় এ বছর আমচাষিদের মধ্যে অন্য ধরনের উৎসাহ কাজ করছে।
চাহিদা বেড়ে চলতি বছর ৩শ মেট্রিকটন আম ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে যাবে বলে আশা করছে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।
আন্তর্জাতিক বাজারে হিমসাগর আম ছড়িয়ে দিতে মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ২০১৫ সালে উদ্যোগ নেয়। ওই বছরে জেলার ১৫টি বাগান নির্বাচন করা হয়। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সেসব বাগান থেকে প্রথমবারের মতো ৪৫ হাজার আম সংগ্রহ করে। চুক্তিভিত্তিক আমচাষিদের নির্ধারিত বাগানগুলোতে কার্বন ব্যাগ পরিয়ে রাখা হয়েছে। জেলা থেকে আম রপ্তানি নিয়ে কাজ করছে নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক সংস্থা সলিডারিডেড নেটওয়ার্ক।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মফিজুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, এ প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে এ বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত আটটি দেশে যাবে মেহেরপুরের আম। আগামী ২০ মে থেকে ওই আম সংগ্রহ শুরু হবে।
সদর উপজেলার ঝাউবাড়িয়া গ্রামের আমচাষি শাহীনুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, গতবছর আমি প্রথম ইউরোপে আম পাঠিয়েছিলাম। এবছর ৩০ বিঘা জমিতে আমের চাষ করা হয়েছে। বাগানে ৩শটি হিমসাগর আমের গাছ রয়েছে। এসব গাছের আম বাছাই করে একধরনের কার্বন ব্যাগ পরিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
‘আমে আঁটি আসার পর থেকেই বাছাইকরা আমে ওই ব্যাগ পরানো হয়েছে। ওই ব্যাগ পরানোর ফলে রোদ, বৃষ্টি এমনকি পোকামাকড়ও ক্ষতি করতে পারবে না। ’
বাগান মালিক ওবাইদুর রশিদ সুমন বাংলানিউজকে বলেন, বাগানের আম ইউরোপে যাবে শুনে আনন্দিত। যে আমগুলো তারা নিচ্ছে সেগুলোর দাম ভালো পাওয়া যায়।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, মেহেরপুরের হিমসাগর দেশের সবচেয়ে সুস্বাদু আম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে মেহেরপুরের এ হিমসাগর ইউরোপে রপ্তানি করা হচ্ছে। মেহেরপুরের ভৌগলিক আবহাওয়া বিবেচনায় জেলা প্রশাসন এবছর গোপালভোগ আম ১৫ মে, হিমসাগর ২০ মে, ল্যাংড়া ৩০ মে থেকে বাজারজাত করা হলে সঠিক ওজন ও স্বাদ বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে। শুধু কৃষি কর্মকর্তাদের সার্টিফিকেট ছাড়া এর আগে কেউ আম ভাঙতে পারবে না।
জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ বাংলানিউজকে বলেন, আম ব্যবসায়ী, চাষি, কৃষি কর্মকর্তা ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার বক্তব্যের নির্দেশনার উপর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আম বাজারজাতকরণের সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৪২ ঘণ্টা, মে ১০, ২০১৭
এএ
আরও পড়ুন
**মেহেরপুরের হিমসাগর যাবে ইউরোপের ৮ দেশে
**আমে কেমিক্যাল, ট্রাকের চাকায় পিষ্ট ৬৫ মণ