ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৭ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

হাওরের জলে অপরূপ সূর্যাস্ত

রাইসুল ইসলাম, এডিশনাল আউটপুট এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৩৬ ঘণ্টা, মে ১০, ২০১৭
হাওরের জলে অপরূপ সূর্যাস্ত হাওরের জলে অপরূপ সূর্যাস্ত। ছবি: বাংলানিউজ

কিশোরগঞ্জের হাওর থেকে: সূর্যাস্ত দেখতে অনেকেই সমুদ্র সৈকতে যান। ভাটি বাংলার হাওরের সূর্যাস্তও কম মোহনীয় নয়। বিস্তৃত হাওরের আপাত নিশ্চল জলে দূর দিগন্তের কোলে ডুবছে লাল-কমলা সূর্য।

ছোট ছোট ঢেউয়ে প্রতিফলিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে তার হালকা কমলাভ আভা। এ অভিজ্ঞতা চিরকাল মনে রাখার মত।

কিশোরগঞ্জের চামড়া বন্দর ঘাট থেকে ইটনা উপজেলা যাওয়ার পথ পুরোটাই হাওরের ভেতর দিয়ে। পথ মূলত ধনু নদীর। তবে বর্ষাকালে হাওর ও ধনু নদী একাকার হয়ে যায়। মাঝে মাঝে চোখে পড়া বয়াই সেখানে নদীর গতিপথ নির্দেশ করে।

ছোটবেলার প্রাথমিকের সেই বাংলা বইয়ের স্মৃতি অনেকেরই মনে আছে। যে বইয়ের পাতায় পাতায় পদ্যের ফাঁকে ফাঁকে আঁকা থাকতো ছোট ছোট গাঁয়ের ছবি।

এক ঝলকে ফ্লাশব্যাকের মত যেন সেই স্মৃতিই মনে করিয়ে দিলো হাওরের চারপাশের প্রকৃতি। সেই ছবির মত হাওরের ভেতর ফাঁকে ফাঁকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে গাছগাছালিতে ভরা ছোট ছোট গ্রাম।

চারিদিকে পানির অবাধ ‍বিস্তার। এর মাঝেই কোথাও মাথা জাগিয়ে রেখেছে এক চিলতে সবুজ ভূমি। হাওরের জলে অপরূপ সূর্যাস্ত।  ছবি: বাংলানিউজকয়েকটি বাড়ি নিয়ে দ্বীপের মত মাথা তুলে জেগে রয়েছে এক একটি বসতি। প্রায় প্রতিটি বাড়ির লাগোয়া ঘাটে নৌকা। নৌকাই এসব গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র বাহন।

গ্রামগুলোর গা ঘেষে পানিতে গা ভাসিয়ে বেড়াচ্ছে হাঁসের পাল। ছোট বাঁশের কঞ্চি হাতে হাঁসের রাখাল চেষ্টা করছে হাঁসগুলোকে নিরাপদে খোয়ারে নিয়ে তুলতে।

কোনো কোনো জায়গায় পানিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দূরন্ত ছেলেছোকরার দল। অনেক বাড়ির মেয়ে ঝিয়েদের দেখা গেল পানিতেই থালাবাসন ধুয়ে নিতে।

হাওরের মাঝে কোথায় কোথাও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যুতের খুঁটির সারি। কোনোগুলোতে তার আছে। কোথাও শুধু ন্যাড়া খুঁটি। হাওরেও আলো জ্বালার চেষ্টা করছে সরকার এ যেন তারই প্রতিচ্ছবি। হাওরের জলে অপরূপ সূর্যাস্ত।  ছবি: বাংলানিউজশেষ বিকেলে যাত্রা শুরু হয়েছিলো চামড়া বন্দর থেকে। মাঝ হাওরে থাকতেই সূর্য ডোবার সময় হলো। ধীরে ধীরে হাওরের জলে অস্ত গেল সূয্যিমামা। তবে গোধূলি লগ্ন তখনও শেষ না হওয়ায় পশ্চিম আকাশে রয়ে গেল তার কিছুটা আভা। নৌকার ছইতেও কাউকে কাউকে নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে পড়তে দেখে বোঝা গেল সময় হয়েছে মাগরিবের নামাজের।

ধীরে ধীরে সূর্যের রক্তিম আভার জায়গায় স্থান করে নিলো চাঁদের ম্লান জোৎসনা। সন্ধ্যায় চাঁদের মায়াবী আলো আধারি ছায়ায় হাওর যেন আরও অপরূপ। চাঁদের ম্লান আলো খুব হালকাভাবে হলেও প্রতিফলিত হচ্ছে হাওরের ছোট ছোট ঢেউয়ে। ঢেউয়ের গায়ের সেই প্রতিফলন ঝিকমিক দিয়ে উঠছে।

হাওরের জলে চাঁদ সূর্যের এই অপরূপ খেলা দেখতে দেখতে যাত্রাপথের আড়াই ঘণ্টা সময় কোথা দিয়ে যে পেরিয়ে গেল তার মালুম হলো না কিছুই।

** নাড়ি ছেঁড়া ধনে টান কৃষকের
**সরকার হাওরবাসীকে খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখবে
**হাওরের বুকে ‘কালবৈশাখী’ দর্শন
**হাওর ডোবার দায় নিলেন না কিশোরগঞ্জের পাউবো কর্তারা

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৪ ঘণ্টা, মে ১০, ২০১৭
আরআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।