ধর্ম মানুষের কল্যাণের জন্য। আমি প্রত্যেক ধর্মকে সম্মান করি’।
বুধবার (১০ মে) শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রাজধানীর বাসাবো ধর্মরাজিক মহাবিহারে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ ‘বৌদ্ধ ধর্মের আলোকে বিশ্বশান্তি’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা আজকে ধর্মকে যেভাবে দেখছি, ধর্ম কি আসলে তাই? যেমন কার্ল মার্কস্ দেখেছেন ধর্মকে শাসকের সৃষ্ট হাতিয়ার হিসেবে। আজকে এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, পৃথিবীর সব ধর্মের ক্ষেত্রেই একটি সুবিধাবাদী শ্রেণী তাদের নিজেদের মতো করে ধর্মের ব্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছে, যার মধ্য দিয়ে সুকৌশলে কায়েমি শাসকশ্রেণী লাভবান হচ্ছে’।
‘গভীরভাবে এ ধর্মগুলোকে নিয়ে চিন্তা করলে আমার মনে হয়, এগুলোকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন করে রাখা হয়েছে। এগুলো যথাযথ তথ্যনির্ভর নয়, বরং মতবাদমূলক। আমরা প্রতিটি ধর্মের মূল ধর্মগ্রন্থ সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করলে দেখতে পাই, এতে মানুষের কল্যাণ, জীবনের সমস্যা, অন্তর্দ্বন্দ্ব, হিংসা, বিদ্বেষ পরিহার করে চলার কথা বলা হয়েছে’।
‘আমরা যদি সারা পৃথিবীর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার দিকে আলোকপাত করি, তাহলে সব জায়গায় যে দ্বন্দ্ব, যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে পাই, তার প্রায় প্রতিটির পেছনেই রয়েছে ধর্মীয় কারণ’ বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।
সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আরও বলেন, ‘এটা সত্য যে, ধর্ম বেশিরভাগ মানুষকেই আকৃষ্ট করেছে, গুটি কয়েক মানুষ ছাড়া। পৃথিবীর প্রায় সব মানুষই ধর্মীয় মতবাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছেন। ধর্মের ওপর ভিত্তি করেই পৃথিবীতে অনেক মহান ব্যক্তি মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেছেন। পক্ষান্তরে এর বিপরীতে অনেক ধর্মান্ধ অসম্পূর্ণ মনোভাবাপন্ন ব্যক্তি এবং নিষ্ঠুর প্রকৃতির স্বেচ্ছাচারী শাসকের আবির্ভাবও মানব সমাজ প্রত্যক্ষ করেছে এবং এখনও আবির্ভূত হচ্ছে’।
‘পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো মানব সমাজকে নৈতিক মূল্যবোধ মেনে চলার নির্দেশনা দিলেও এ মূল্যবোধ আজ প্রায়ই প্রয়োগ করতে দেখা যায় না’।
সংঘের সভাপতি শুদ্ধানন্দ মহাথের এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূহ উল আলম লেনিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ইয়সুজা গুনাসেকারা, ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ত্রানভান খোয়া, রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্রুবেশানন্দজি মহারাজ, নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের উপাচার্য ফাদার বেঞ্জামিন ডি কস্তাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।
বাংলাদেশ সময়: ১৯৫০ ঘণ্টা, মে ১০, ২০১৭
ইএস/এএসআর