ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৭ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

মংডু-টেকনাফ সরাসরি লঞ্চ সার্ভিস শিগগিরই

ইসমাইল হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৪৬ ঘণ্টা, মে ১০, ২০১৭
মংডু-টেকনাফ সরাসরি লঞ্চ সার্ভিস শিগগিরই

ঢাকা: মায়ানমারের মংডু শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সরাসরি লঞ্চ সার্ভিস চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তবে দু’দেশের মধ্যে ‍আলোচনার অগ্রগতি শিগগিরই এ সার্ভিস চালুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটা চালু হলে পর্যটন বিকাশের পাশাপাশি বেশ কিছু সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি থেকে জানা যায়, উভয় দেশ থেকে বৈধ-অবৈধ পন্থায় ছোট ছোট নৌকা-ট্রলারে করে বিভিন্ন প্রকার মালামাল ও যাত্রী পরিবহন করা হয়- যা ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ। এসব নৌকা ও ট্রলারে বিজিবি-কাস্টমসের পক্ষে তল্লাশি করাও সহজসাধ্য নয়।

সরাসরি নৌ-যোগাযোগ চালু হলে এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। কমবে চোরাচালান ও মাদক পাচার।  

টেকনাফ-মায়ানমারের মংডু শহরের মধ্যে নাফ নদীপথে প্রায় চার কিলোমিটার লঞ্চ চলাচলের জন্য গত ২০ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়। এতে জাতীয় চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটি লঞ্চ সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিজিবির চট্টগ্রাম রিজিওন কমান্ডার ও মায়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় সভার পরিপ্রেক্ষিতে লঞ্চ চালুর বিষয়ে একমত হয় দু’দেশ।

এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে অনুমোদন যায়নি বলে জানিয়েছে লঞ্চ সার্ভিস চালুর জন্য আবেদন করা প্রতিষ্ঠান ‘নাফ ট্রাভেলস ট্যুরস অ্যান্ড সার্ভিস’ এবং বিজিবি।

বিজিবির কাছে আবেদন করা চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-মায়ানমার ট্রেড এগ্রিমেন্ট, ১৯৯৫ অনুযায়ী ব্যবসায়িক কাজের জন্য বর্তমানে যাত্রীরা ট্রলারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ থেকে মায়ানমার যাতায়াত করছে। এসব ট্রলার যে কোনো সময় দুর্ঘটনায় পতিত হলে তা দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।  

লঞ্চ সার্ভিস চালুর অনুমতি চেয়ে চিঠিতে জানানো হয়, এতে যাত্রীরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে ও মায়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক আরও বাড়বে।

নাফ ট্যুরস বর্তমানে একটি জাহাজ সেন্টমার্টিন রুটে পারিচালনা করছে বলেও চিঠিতে জানানো হয়।  

টেকনাফ বিজিবির সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম আশরাফুল ইসলাম এ বিষয়ে বাংলানিউজকে বলেন, লঞ্চ সার্ভিস চালু হলে চোরাচালান রোধ করা সহজ হবে। এছাড়াও দু’দেশের সম্পর্ক আরও ভালো হবে। একদিনের পাস নিয়ে ছোট ছোট নৌকায় দু’দেশের পর্যটক ও যাত্রীরা আসা-যাওয়া করেন। গত তিনমাস সেটাও বন্ধ রয়েছে।  

নাফ ট্যুরস অ্যান্ড সার্ভিসের পরিচালক দিদার মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, এখনও অনুমতি হাতে পাইনি। অনুমতি পেলে দ্রুত লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ০২৪৭ ঘণ্টা, মে ১১, ২০১৭
এমআইএইচ/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।