বৃহস্পতিবার (১১ মে) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শ্রমজীবী মানুষ ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,বড় ধরনের দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকার মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের জার্মানির এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম সরেজমিনে পরিদর্শন করে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
বাংলাদেশের উপযোগী এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যার মাধ্যমে শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া সহজ হবে।
এ বিষয়ে মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ আশা করেন প্রধানমন্ত্রী।
যেকোনো শ্রমিক দুর্ঘটনার কারণে বা পেশাগত রোগ-ব্যাধির কারণে মৃত্যুবরণ করলে বা কর্মক্ষমতা হারালে তাদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের বিধান বাংলাদেশ শ্রম আইনে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শ্রমিকদের সুস্বাস্থ্য ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় দেশে প্রথমবারের মতো অকুপেশনাল ডিজিস হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে ৩৩ শতাংশ শয্যা শিল্প-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের জন্য রিজার্ভ থাকবে এবং শ্রমিকরা কম খরচে এ হাসপাতালে পেশাগত রোগ-ব্যাধির চিকিৎসা নিতে পারবেন।
শ্রম আইন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল গঠন, তহবিলে স্থিতির পরিমাণ ৮ লাখ ৪৪ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২শ কোটিতে উন্নীতকরণ, তহবিল থেকে ১ হাজারের বেশি শ্রমিককে সাড়ে ৫ কোটি টাকা কল্যাণ, গোষ্ঠীবিমা প্রিমিয়াম ও শিক্ষা বৃত্তি, উচ্চশিক্ষার জন্য শ্রমিক সন্তানদের তিন লাখ টাকা, কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় স্থায়ী অক্ষম হলে বা মৃত্যুবরণ করলে ২ লক্ষ টাকা, জরুরি চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহের জন্য অনধিক ৫০ হাজার টাকা, দুরারোগ্য ব্যধির চিকিৎসায় অনধিক ১ লক্ষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন ও উৎপাদনের সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত, দেশ গঠনে যারা জড়িত, যারা শ্রম দিচ্ছে, যারা খেটে খাচ্ছে, তাদের ভাগ্য পরিবর্তন, কর্মস্থলের নিরাপত্তা, তাদের পরিবার যাতে অন্তত সহায়তা পায়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা সবসময় শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেই।
পরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে শ্রমিকদের ৩৭ জন মেধাবী সন্তান এবং দুর্ঘটনায় নিহত ২৭ জন শ্রমজীবী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেন।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, এ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সচিব মিকাইল শিপার।
বাংলাদেশ সময়: ১২২৪ ঘণ্টা, মে ১১, ২০১৭/আপ:১৪০৭ ঘণ্টা
এমইউএম/এএ