আমদানি করা সার ও খাদ্যশস্য চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দরে বড় জাহাজ থেকে খালাসের পর তা বার্জ ও কার্গোতে করে নদীপথে নওয়াপাড়া বন্দরে আনা হয়। ভৈরব নদে প্রতিদিন শতাধিক বার্জ ও কার্গো থেকে পণ্য ওঠানো-নামানো হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, পলি জমে ও অবৈধ দখলের কারণে ভৈরব নদ ছোট হয়ে গেছে। এ কারণে ঠিকমতো পণ্যবাহী বার্জ ও কার্গো ভিড়তে পারছে না। বর্তমানে নদ পুনঃখননের (ড্রেজিং) কাজ চলছে। তবে তা যে অংশে প্রয়োজন তার বিপরীত অংশে করা হচ্ছে বলেই অভিযোগ।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নওয়াপাড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক নিয়ামুল হক রিকো বাংলানিউজকে বলেন, নৌবন্দরে প্রায় ৪ হাজার নৌ শ্রমিক রয়েছে। বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় এসব শ্রমিক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। লোহার পিলারগুলো ডুবে যাওয়ায় ২০-৩০টা জাহাজ ও কার্গো ফুটো হয়ে গেছে।
তিনি জানান, বন্দরে স্থায়ী জেটি নেই, নেই গাউড ওয়াল। নেই শ্রমিকদের কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা। এমনকি শ্রমিকদের স্থায়ী কার্যালয় নেই।
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, নৌ বন্দরের জায়গা প্রভাবশালীরা দখল করে নিলেও শ্রমিকদের স্থায়ী কার্যালয়ের জন্য জায়গা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে নওয়াপাড়ায় নৌবন্দর স্থাপিত হয় এবং ২০০৭ সালে এর কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৭ সালে নৌবন্দরের সীমানা নির্ধারণ করে সীমানা পিলার স্থাপন করা হয় ভাটপাড়া খেয়াঘাট থেকে মহাকাল শ্মশান পর্যন্ত।
স্থানীয় নেতৃত্ব, বিআইডব্লিউটিএ ও ব্যবসায়ীদের বিরোধের কারণে এডিবির বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ফিরে গেছে বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।
তারা বলেন, নওয়াপাড়া নৌ-বন্দরের সম্পত্তি প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা জবর দখল করে রেখেছে। দখলি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তুলেছে বিভিন্ন শিল্প কলকারখানা, ঘাট, গুদাম ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
নওয়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী শেখ ইফতেখার হোসাইন বলেন, ঘাটগুলো মেরামত করা দরকার। রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে এখানের উন্নয়ন কাজগুলোর ধারাবাহিকতা থাকে না। এখানকার ঘাটের প্ল্যাটফর্ম, পাইলিং এসব রক্ষিতভাবে করা হয়নি। কোনোমতে রেখে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়নি।
তার মতে, গত কয়েক বছর আগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) নওয়াপাড়ার অবকাঠামো উন্নয়ন ও শৃঙ্খলার জন্য তাদের অধীনে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু একটি পক্ষ বাইরে থেকে ভাড়া করা লোক এনে আন্দোলন করে তা প্রতিহত করে। যার কারণে আজ নওয়াপাড়াকে যে যেমন খুশি ব্যবহার করছে। সে সময় যদি কেডিএর অধীনে দেওয়া হতো তাহলে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ উন্নত নওয়াপাড়া গড়ে উঠতো।
নৌবন্দরের সহকারী পরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, নৌবন্দরে জনবল নেই বললেই চলে। খুলনা অফিস থেকে ৬জন লোক এনে কাজ চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অর্গানোগ্রামও পাস হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এখানে আমরা ৯টা জেটি তৈরি করেছিলাম। কিন্তু ব্যবসায়ীরা তা ব্যবহার না করায় নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় জেটি তৈরি করে সেখান দিয়ে মালামাল নামায়। তাদের প্রধান দু’টি দাবি ছিল নদ পুনঃখনন (ড্রেজিং)ও গাইড ওয়াল নির্মাণ। পুনঃখননের কাজ দু’মাস আগে শুরু হয়েছে। গাইড ওয়াল নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নৌবন্দরের জায়গায় অবৈধ্য দখলদার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৮৬টি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা ছিল, তার মধ্যে ৬৫টি উচ্ছেদ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩৩৮ ঘণ্টা, মে ১১, ২০১৭
এমআরএম/এএ