ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৭ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

পাঠক নেই হবিগঞ্জ লাইব্রেরিতে!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০৪২ ঘণ্টা, মে ১২, ২০১৭
পাঠক নেই হবিগঞ্জ লাইব্রেরিতে! পাঠক শূন্য হবিগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি। ছবি: বাংলানিউজ

হবিগঞ্জ: নিরিবিলি স্থানে অবস্থিত হবিগঞ্জ জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের পরিবেশ পড়াশোনার জন্য খুবই উপযুক্ত। পাঠাগারের দুই থেকে পাঁচশ’ গজের ভেতরে আছে একটি সরকারি কলেজ, একটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জেলা প্রেসক্লাব ও একটি সাংস্কৃতিক একাডেমি।

কিন্তু পাঠাগারটিতে পাঠকের সংখ্যা নিতান্তই হাতেগোনা। স্কুলের টিফিন পিরিয়ডে কিছু সংখ্যক শিশু পাঠক এসে ছোটদের বই নিয়ে বসে।

বিকেলে আসেন দুই-তিনজন নারী পাঠক।
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, লাইব্রেরিটিতে বইগুলো বিষয়ভিত্তিক সাজানো। তবে গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধের বই একসঙ্গে রাখায় হাজার হাজার বইয়ের ভেতর থেকে কাঙিক্ষত বইটি খুঁজে পেতে গলদঘর্ম হতে হয়। গণগ্রন্থাগারটিতে নেই কোনো ক্যাটালগ। দরকারি বই খুঁজতে পাঠকের চোখই ভরসা।

লাইব্রেরিয়ানের কক্ষে একটি কম্পিউটার রয়েছে। সেটিতে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের দেওয়া ইন্টারনেট সংযোগও রয়েছে। তবে পাঠকদের ব্যবহারের জন্য কোনো ইন্টারনেট সেবা নেই। এখানে নয়টি জাতীয় ও দু’টি স্থানীয় দৈনিক রাখা হয়। এছাড়াও কিছু সাপ্তাহিক ও মাসিক সাময়িকী আসে।


পাঠকদের অভিযোগ, গণগ্রন্থাগারের প্রবেশপথের সিঁড়িতে প্রায় সর্বক্ষণ চলে বখাটে তরুণদের আড্ডা, প্রকাশ্যে সিগারেট ফোঁকা।

পাঠকদের ব্যবহারের শৌচাগারটি থাকে তালাবদ্ধ। সব শৌচাগার ব্যবহারযোগ্যও নয়।

গণগ্রন্থাগারটিতে একজন লাইব্রেরিয়ান, একজন জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান, একজন সহকারী লাইব্রেরিয়ান, একজন অফিস সহকারী কাম এমএলএসএস ও একজন অনিয়মিত নৈশপ্রহরী কর্মরত আছেন। হবিগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি।  ছবি: বাংলানিউজ

গ্রন্থাগারের জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান পরিমল শর্মা বাংলানিউজকে জানান, বইগুলোর একটি নিবন্ধন খাতা আছে। সেটিতে সবগুলো বইয়ের নাম ও নম্বর লিপিবদ্ধ আছে। তবে খাতাটি পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত নয়।

তিনি স্বীকার করেন, লাইব্রেরিতে এখনো পর্যন্ত কোনো ক্যাটালগ তৈরি করা হয়নি। কবে নাগাদ সেটি করা যাবে সে ব্যাপারে তিনি বলতে পারছেন না। অনলাইন ক্যাটালগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটিও নির্ভর করে গ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত সংখ্যক কম্পিউটার ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা প্রাপ্তির ওপরে।

পরিমল শর্মা জানান, এ বিষয়ে জেলা লাইব্রেরিয়ান ভালো বলতে পারবেন।

তবে অফিস সময়ে জেলা লাইব্রেরিয়ান মো. সাইফুল ইসলামকে তার কক্ষে পাওয়া যায়নি। জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান জানান, জেলা লাইব্রেরিয়ান বাইরে আছেন। তাকে অনেকবার মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

গণগ্রন্থাগারটির নিয়মিত পাঠক সংস্কৃতিকর্মী আজহারুল ইসলাম চৌধুরী মুরাদ বাংলানিউজকে বলেন, এখানে পত্র-পত্রিকা টেবিলের ওপর থাকায় সেগুলো সহজেই পাওয়া যায়। তবে দরকারি বই খুঁজে পেতে খুবই সমস্যা হয়। আগের দিন একটি বই এক জায়গায় রেখে গেলেও পরদিন গিয়ে সেটি সেখানে পাওয়া যায় না।

লাইব্রেরির বারান্দায় বখাটে ছেলেদের মারামারির ঘটনা মাঝে মাঝেই ঘটে বলেও অভিযোগ তার।

বাংলাদেশ সময়: ০৬৪০ ঘণ্টা, মে ১২, ২০১৭
এএসআর/জেডএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।