শুক্রবার (১২ মে) সকাল ৯টার কিছুক্ষণ আগে থেকে তারা কাজ শুরু করেন। এতে শ্বাসরুদ্ধকর এই অভিযানের শেষ দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম বেনীপুরের মানুষ।
বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাতে এই জঙ্গি আস্তানার অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘সান ডেভিল’। এরপরই আলো স্বল্পতায় অভিযান স্থগিত করা হয়। রাত পৌনে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে এ তথ্য জানান এডিশনাল ডিআইজি (এডমিন) মাসুদুর রহমান ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, যারা মারা গেছেন তারা সবাই জেএমবির সদস্য এবং সবাই আত্মঘাতী বোমায় নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আশরাফুল ছাড়া বাকি চারজন একই পরিবারের সদস্য। তবে তাদের কোনো সাংগঠনিক পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
তিনি জানান, ঢাকা থেকে সন্ধ্যায় গোদাগাড়ীর জঙ্গি আস্তানাস্থলে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের (বোম ডিসপোজাল ইউনিট) ১২ সদস্য পৌঁছেছেন। কিন্তু রাত হয়ে যাওয়ায় তারা কাজ শুরু করতে পারেননি।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা থেকে উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের বেনীপুর মাছমারা গ্রামের সাজ্জাদ হোসেনের বাড়ি ঘিরে রাখে পুলিশ। সকাল ৮টা ৫০মিনিটে আস্তানা থেকে বের হয়ে সাজ্জাদসহ ওই বাড়িতে থাকা পাঁচ সদস্য বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মাহুতি দেন।
এসময় আত্মসমর্পণ করেন সাজ্জাদের আরেক মেয়ে সুমাইয়া বেগম। আস্তানা থেকে সুমাইয়ার ছেলে জোবায়ের (০৮) ও আতিয়া (৩ মাস) নামের দুই শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ। সুমাইয়ার স্বামী জঙ্গি জহুরুল আটক আছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এ অভিযান চালানো হয়।
একই পরিবারের নিহত জঙ্গিরা হলেন, সাজ্জাদ হোসেন (৫০), তার স্ত্রী বেলী বেগম (৪৫), ছেলে আল আমিন (১৮), মেয়ে কারিমা খাতুন (২৪)। বহিরাগত জঙ্গি আশরাফুল (২৪)। আশরাফুলের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেবিপুর গ্রামে।
রাজশাহী রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি মাসুদুর রহমান ভূঁঞা বৃহস্পতিবার রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অপারেশন ‘সান ডেভিল’: উদ্ধার শুরুর অপেক্ষায় বেনীপুর
বাংলাদেশ সময়: ০৯০৬ ঘণ্টা, মে ১২, ২০১৭
এসএস/আইএ