ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৭ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

হাজারীবাগের মতো অবস্থা হবে সাভার ট্যানারির

শেখ জাহিদুজ্জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৩৫৪ ঘণ্টা, মে ১২, ২০১৭
হাজারীবাগের মতো অবস্থা হবে সাভার ট্যানারির সাভার ট্যানারিতে কাজে ব্যস্ত শ্রমিকরা। ছবি: কাশেম হারুন-বাংলানিউজ

ঢাকা: হাজারীবাগে ট্যানারির সকল কার্যক্রম বন্ধ। এরই মধ্যে সাভার ট্যানারিতে প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ করছে কয়েকটি ট্যানারি। আর সম্পূর্ণভাবে চামড়া প্রক্রিয়াকরণের কাজ করছে মাত্র ৪টি ট্যানারি।

সাভার ট্যানারি পুরোপুরিভাবে চালু হতে সময় লাগবে এখনো প্রায় ১ বছর। কিন্তু ট্যানারি সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, আর ২ বছর পর হাজারীবাগের ট্যানারির মতো অবস্থা হবে সাভার ট্যানারির।



বুধবার (১০ মে) সাভারের চামড়াশিল্প নগরে গেলে সেখানকার ট্যানারি সংশ্লিষ্টরা বাংলানিউজকে একথা জানান।

সাভার চামড়াশিল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ১৫৪টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রাথমিকভাবে কাজ করছে মাত্র ১০-১২টি ট্যানারি। আর পুরোপুরি কাজ করছে মাত্র ৪টি ট্যানারি। এরাই  শুধু প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে পুরোমাত্রায় রপ্তানি করতে পারছেন। তবে এর বাইরে পুরো চিত্রটা চরম হতাশার। সাভার ট্যানারি এখন বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত। কেননা ট্যানারির রাস্তায় জমে আছে পানি, এখনো শেষ হয়নি ভবন নির্মাণের কাজ, শ্রমিকদের থাকার জায়গা নেই, মেডিকেল ব্যবস্থা নেই, বিদ্যুৎ গেলে সহজে আসে না। এছাড়া পানি ও গ্যাসের সমস্যা তো আছেই।
সাভার ট্যানারিতে কাজে ব্যস্ত শ্রমিকরা।  ছবি: কাশেম হারুন-বাংলানিউজ সাভার ট্যানারির বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে আর কে লেদারের চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো.হায়দার বাংলানিউজকে বলেন, হাজারীবাগের মত অবস্থা হবে সাভার ট্যানারিরও। এখনো অনেক ট্যানারি গ্যাস ও বিদ্যুৎ পায়নি। ফলে সেসব ট্যানারি উৎপাদনে যেতে পারছে না। অপরদিকে বিদেশি বায়ারদের কাছ থেকে যাদের কাজ নেওয়া ছিলো সেসব বায়ারও চলে যাচ্ছে বিদেশে। এখানে হাজারীবাগের চেয়ে আমাদের আরও বেশি সমস্যায় পড়তে হবে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটু সমান পানি জমে যায়। বিদ্যুৎ গেলে নির্ঘাত ৪-৫ ঘণ্টা পরে আসে।
 
টিএমএল লেদার বাংলাদেশ লিমিটেড এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর তোফাজ্জল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, দুই বছর পর হাজারীবাগের মত অবস্থা হবে সাভার ট্যানারিরও। এখানে যে সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান ( সিইটিপি) করা হয়েছে সেটা ভুল প্লানে করা হয়েছে। আর একটি সিইটিপি দিয়ে কখনো বর্জ্য পরিশোধন সম্ভব হবে না। কেননা যে পাইপ দিয়ে বর্জ্য টেনে নেওয়া হবে সেটার ব্যাসার্ধ অনেক ছোট। আর ছোট পাইপ লাইন দিয়ে ১৫৪টি ট্যানারির বর্জ্য পরিশোধন করা কখনো সম্ভব হবে না। কম করে হলেও তিনটি সিইটিপি করার প্রয়োজন ছিলো।
সাভার ট্যানারিতে কাজে ব্যস্ত শ্রমিকরা।  ছবি: কাশেম হারুন-বাংলানিউজ
তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যে সমস্ত বায়ার চামড়া ক্রয় করতেন, তারা এখন  এখন ভারত ও পাকিস্তান থেকে চামড়া নিচ্ছে। ফলে অনেক বায়ার আমাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। বর্তমানে সাভার চামড়াশিল্প এলাকায় মাত্র ৪টি ট্যানারি পুরোপুরি কাজ করছে।

সাভার ট্যানারিতে কাজ শুরু হয়েছে সেটাও এখনো বলা যাবে না। কেননা যেখানে ১৫৪টি ট্যানারির কাজ পুরোদমে শুরু করার কথা, সেখানে মাত্র  ৪টি ট্যানারি পানি,গ্যাস ও বিদ্যুৎ পেয়ে সম্পর্ণভাবে কাজ করছে। এটা কোনো সফলতাই নয়।  

 সাভার চামড়াশিল্প এলাকায়ই কথা হয় ইতালীয় বায়ার এরিক রোবার্তের সঙ্গে।

বাংলানিউজকে তিনি বলেন , বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্প এই চামড়া শিল্প। কিন্তু এই শিল্প এখন হুমকির মুখে আছে। এরই মধ্যে আমাদের কিছু শিপমেন্ট বাতিল হয়ে গেছে। আমরা এখন ভারত ও পাকিস্তান থেকে চামড়া ক্রয়ের কথা ভাবছি। বাংলাদেশের চেয়ে এখন পাকিস্তান চামড়া শিল্পে অনেক ভালো করছে। বাংলাদেশ সরকারকে ট্যানারিগুলোকে রক্ষায় আরও সুযোগ করে দিতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা, পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে হবে। নইলে বাংলাদেশের চামড়াশিল্প ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
হাজারীবাগের মত অবস্থা হবে সাভার ট্যানারির।  ছবি: কাশেম হারুন-বাংলানিউজ
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে দেওয়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কারখানাগুলো সাভারের হরিণধরায় সরিয়ে নিতে ২০০৩ সালে তিন বছর মেয়াদী যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয় তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে একযুগ আগে। এরই মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে সাতবার। ১৭৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে হয়েছে ১ হাজার ৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
 
বাংলাদেশ সময়: ০৯৫০ ঘণ্টা, মে ১২, ২০১৭
এসজে/জেএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।