বুধবার (১০ মে) রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে অনিয়মের কোনো শেষ নেই। যত্রতত্র প্রতিযোগিতা করে পার্কিং-যাত্রী নেওয়া, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ সব রকম নৈরাজ্য চলছে বেসরকারি গণপরিবহন ব্যবস্থায়।
ভূঁইয়া পরিবহনের যাত্রী উমা খান বাংলানিউজকে বলেন, আগারগাঁও থেকে বনানী পর্যন্ত আসলে ৩৫ টাকা নেওয়া হলো। এটা অরাজকতা ছাড়া কিছুই না।
অফিস টাইমে বাসে ওঠতে পারার যুদ্ধটা আসলে দেখার মতোই। একটা বাস এসে দাঁড়াতেই কিভাবে ওঠার যুদ্ধ চলে, তা অনেকটা প্রাণপ্রণ লড়ে যাওয়ার মতো।
ফার্মগেটে একটু ব্রেক করেই মিরপুরের দিকে চলে যাচ্ছিলো শেকড় পরিবহনের একটি বাস। একজন যাত্রীকে নামতে দেখে অন্তত ১৫ জন ছুটে গেলেন ওঠতে। কিন্তু হেলাপারও একজনকে চলন্ত অবস্থায় তুলে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিতে চেষ্টা করছিলেন। তাই যাত্রীরা প্রাণপ্রণ চেষ্টা করেও হেরে গেলেন। অনেকটা ছোঁ মেরে নিয়ে যাওয়ার মত একজনকে গাড়িতে তুলে জোরে ছুটতে শুরু করলো বাস। অগ্যতা গাড়ির গতি বেড়ে যাওয়ায় হতাশ হলেন বাকিরা।
বাসে ওঠতে ব্যর্থযাত্রী ইয়াকুব আলী বলেন, জরুরি প্রয়োজনে মিরপুর যেতে হবে। গাড়িও ফাঁকাই আছে। তবু নিচ্ছে না। রাজধানীতে পরিবহন ব্যবস্থা সেই আগের মতোই আছে। যদিও অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই যেতে হয়।
এদিকে কোনো কোনো পরিবহন আবার সিটিংয়ের ভাড়া নিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু দাঁড় করিয়েও যাত্রী নিচ্ছে। এ নিয়ে অবশ্য কন্ডাক্টরের সঙ্গে যাত্রীদের ঝগড়াও হচ্ছে। মহাখালীতেই দেখা গেছে, এক কন্ডাক্টরকে টেনে নামাচ্ছেন দুই যাত্রী। তাদের সঙ্গে এক পর্যায়ে আরো দুই তিনজন মিলিত হয়ে, বেদম মারলেন ৩ নম্বর বাস সার্ভিসের ওই স্টাফকে।
সুবিদ ভূইয়া নামের এক যাত্রী বলেন, ফার্মগেট থেকে বনানী ১০ টাকা দাবি করার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একজনের সঙ্গে বাজে আচরণ করায় কয়েকজন মিলে ওই কন্ডাক্টরকে মারধর করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১০০১ ঘণ্টা, মে ১২, ২০১৭
ইইউডি/বিএস