শুক্রবার (১২ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায়।
তিনি বলেন, আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের ঘটনা সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
মামলাটি নিয়ে সারাজাতি উন্মুখ হয়ে ছিল, এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তে ডিএমপি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। মামলাটি ডিএমপির ওইমেন্স সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেন্সটিগেশন বিভাগ ছাড়াও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), গুলশান বিভাগের পুলিশ ছায়া তদন্ত করেছে বলে জানান ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার।
তিনি বলেন, মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে মহাপরিদর্শক পুলিশ সদর দফতর থেকে একটি বিশেষ টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে।
এই চারটি টিমের তৎপরতায় বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাতে সিলেট থেকে মামলার প্রধান আসামি সাফাত ও তিন নম্বর আসামি সাদমানকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
কৃষ্ণপদ বলেন, বাদীর আবেদন অনুযায়ী মামলার তদন্তভার ওমেনসাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশনসকে দেয়া হয়েছে। তবে মামলাটি অতি সংবেদনশীল হওয়ায় তদন্ত কমিটির কাজের সুবিধার্থে আরেকটি সহায়ক তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।
কমিটির প্রধান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় নিজেই। অন্যান্যরা হচ্ছেন, ডিবি উত্তরের উপ-কমিশনার (ডিসি) শেখ নাজমুল আলম, গুলশান বিভাগের ডিসি মোস্তাক আহমেদ ও ওইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশনস এর ডিসি ফরিদা ইয়াসমিন।
অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলমান আছে উল্লেখ করে কৃষ্ণপদ সাংবাদিকদের বলেন, জনসাধারনে মনে অনেক প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে এই ধর্ষণ মামলাটি। অনেকেই বলেছেন আসামিরা প্রভাবশালী বলে পার পেয়ে যাবে কি না? তবে এমন সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। পুলিশ সব ঘটনা পূর্ণ পেশাদারিত্বের সাথে তদন্ত করে। সমস্ত অনুরাগ বিরাগের উর্দ্ধে উঠে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
সেই ভিডিও হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন বাদীরা, সেটি এখনো আসামিদের সংরক্ষণে আছে কি না’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি কেউ ভিডিও করে থাকে সেটা অন্য কেউ ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, সেগুলো মাথায় রেখে তদন্ত চলছে। এফআইআরের বর্ণিত ঘটনার বিবরণের বাইরেও মিডিয়াতে অনেক কথা এসেছে এসব বিষয় মাথায় রাখা হচ্ছে, বলেন ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার।
মামলার ডিজিটাল এবং মেডিকেল ফরেনসিক এভিডেন্সসহ সকল তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মামলায় বর্ণিত আসামিদের বাইরে ঘটনায় সহযোগী হিসেবে আর কেউ ছিল কি না সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সেদিন অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বাদীর এম অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্তের ধারাবাহিকতায় সব বের হয়ে আসবে। তবে গ্রেফতার হওয়া দুই আসামির কাছ থেকে কোন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়নি।
এই মামলার তদন্ত কাজ শেষ করতে পারলে এই তদন্তটিকে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন কৃষ্ণপদ রায়।
বাংলাদেশ সময়: ১৩০৮ ঘণ্টা, মে ১২, ২০১৭
পিএম/আরআইএস/বিএস