ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) মো. মিজানুর রহমানকে প্রধান করে কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় ও যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।
শুক্রবার (১২ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায়।
তিনি বলেন, মামলা নিতে বিলম্ব, আর্থিক লেনদেনসহ থানার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখতে ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশক্রমে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। থানার কর্মকর্তাদের আসলেই কোনো দায় আছে কি না এ বিভ্রান্তি নিরসনে কমিটি কাজ করবে।
বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় বনানী থানায় মামলা না নিতে চাওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগ করেছেন বাদীপক্ষ। এর পরপরই আলোচিত ওসি ফরমান আলী ৯ মে থেকে ‘একান্ত পারিবারিক’ কারণ দেখিয়ে ৫ দিনের ছুটিতে যান।
এর আগে ধর্ষণের শিকার দুই তরুণীর একজন অভিযোগ করেন, ‘৪ মে ধর্ষণের মামলা করতে গিয়ে মনে হচ্ছিল আরও কয়েকবার ধর্ষিত হচ্ছি। পুলিশ বারবার একই ঘটনা (ধর্ষণের) শুনতে চাইছিল। অনেকবার শোনার পর একপর্যায়ে বললেন, এসব কথা লিখতে হবে। আমরা স্টেটমেন্ট লিখলাম। এরপর বললেন, আপনারা আজ চলে যান, আমরা তদন্ত করবো, যদি দেখি ওরা অপরাধী তাহলে আমরা মামলা নেবো। ’
ওই তরুণী বলেন, ‘পরদিন (০৫ মে) ডেকে আবার একই ঘটনা আবারও জিজ্ঞেস করেছে পুলিশ। বলেছে, এটা আপনারা বলেন নাই, আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি। তখন আমরা বলছি, আমরা কোনো জিনিস বাদ দেই নাই। ’
‘পরদিন (০৬ মে) রাতে আমাদের ডাকা হলো, মামলার কপি দেওয়ার জন্য। যাওয়ার পর পুলিশ আমাদের আটকে দেন। আমাদের বলা হলো- ছবি তুলতে হবে। আমরা তো ব্যাপারটা ভয় পাই- ছবি তুলবো, আবার কী হয় না হয়। তখন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে ফোন করে বিষয়টি জানাই। ছবি তুলতে না চাওয়ায় কয়েকজন মহিলা পুলিশ বাজে ব্যবহার করেন। নিয়ম না থাকলেও সেদিন রাতে আমাদেরকে থানায় থাকার কথা বলে। পরে অবশ্য আমাদের থানায় না রেখে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ’
অভিযুক্তরা প্রভাবশালী শোনার পরই বনানী থানা পুলিশ বিষয়টি নিয়ে গরিমসি শুরু করে। বনানী থানা আসামিপক্ষের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৮ মার্চ বনানীর দ্য রেইন ট্রি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে দুই তরুণীকে ধর্ষণ করে বলে শনিবার (০৬ মে) বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীদের একজন।
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ভুক্তভোগী ওই তরুণীর দায়ের করা মামলায় পাঁচ আসামিরা হলেন- সাফাত আহমেদ(২৬), নাঈম আশরাফ (৩০), সাদমান সাকিফ (২৪), সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল (২৬) ও দেহরক্ষী আজাদ।
বাংলাদেশ সময়: ০৯০০ ঘণ্টা, মে ১৩, ২০১৭
পিএম/জেডএস