এ বাজারেই বসে পাইকারি সবজির পসরা। কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা ছাড়াও বুড়িগঙ্গার ওপারে পুরান ঢাকার বিভিন্ন বাজারে এখান থেকে সবজির যোগান দেওয়া হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, রোহিতপুর থেকে খুব সকালেই খুচরা সবজি বিক্রেতারা ভ্যান ভরে সবজি কিনে নেন। এরপর সারি সারি করে একের পর এক পেছন পেছন ছোটেন বিভিন্ন বাজারের দিকে। কেউবা যান বিভিন্ন পাড়া মহল্লায়।
খুচরা বিক্রেতারা সবাই প্রায় রোহিতপুর ইউনিয়নেরই বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তারা কৃষকের সবজি কিনে ধোয়ার কাজটি যে যার মতো সুবিধাজনক স্থানে সেরে ফেলেন।
রোহিতপুর বাজারে সবজি ধোয়ার পানির তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। খুচরা ব্যবসায়ীদের তাই একমাত্র অবলম্বন রোহিতপুর থেকে কদমতলী পর্যন্ত সড়কের দক্ষিণপাড় জুড়ে ডোবাগুলো। দলবেধে তারা এসব ডোবার নোংরা, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতেই ধুয়ে নিচ্ছেন জীবনের ‘রসদ’ সবজিগুলো!
পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, এসব ডোবায় মরা পশুপাখির দেহও পড়ে রয়েছে। এছাড়া কচুরিপানার পচা গন্ধে পানিতে নামাই দায়।
সবজি বিক্রেতারাও বলছেন, কিছু করার নেই। আধাঘণ্টার মতো সময় নিয়ে এই পানিতে কাজ করতে গিয়ে হাতে-পায়ে চুলকানি শুরু হয়ে যায়। পানি একেবারে পচে গেছে। কিন্তু সবজি না ধুয়ে বাজারে নিলে তো কেউ নেবে না।
শাক্তা এলাকায় দেখা গেলো মমিন, নুরু মিয়া সবজি ধুয়ে নিচ্ছেন রাস্তার নামায় এক ডোবার পানিতে। বাংলানিউজকে মমিন বলেন, বাজারে যদি পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতো তবে এ ডোবায় নামতে হতো না। পানি এতো পচে গেছে যে, আমাদের হাত-পা খুব চুলকায়। সবজিতে জীবাণু থাকবে এটা বোঝাই যায়।
‘কিছুই করার নাই তো। না ধুইলে বেচুম ক্যামনে?’ পাল্টা প্রশ্ন তার।
এসব ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা গেলো, রোহিতপুর বাজারে আশেপাশের কয়েকগ্রাম থেকে ছোট বড় চাষিরা তাদের ক্ষেতের সবজি নিয়ে সকালে বাজারে আসেন। এদের মধ্যে অনেকে আবার পাইকারি বিক্রেতাও রয়েছেন যারা বিভিন্ন কৃষকের কাছ থেকে সবজি কিনে বাজারে বিক্রি করেন। আর এদের কারণে ছোট চাষিদেরও পাইকারি দামেই সবজি বিক্রি করতে হয়।
ব্যবসায়ী জয়নাল মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, এক পাল্লা (৫ কেজি) বরবটি ১শ’ টাকায় কিনি, যা বিক্রি হবে ২শ’ টাকায়। মিষ্টিকুমড়া গড়ে ২০ টাকা (পতি পিস), বিক্রি হবে ৫০ টাকায়। কাঁচা মরিচের পাল্লা ১২০ টাকা, বিক্রি হবে ১শ’ ৮০ টাকায়, ঢেঁড়শ ২০ টাকায় কেনা, বিক্রি হবে ৪০ টাকায়, শাকের আঁটি (প্রকারভেদে) তিন থেকে পাঁচ টাকা কেনা, বিক্রি হবে ৭ থেকে ১০ টাকায়। বেগুন ১৮ টাকায় কেনা, বিক্রি হবে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়।
পাইকারি বিক্রেতা মোহাম্মদ জাবেদ হোসেন বলেন, রোহিতপুর বাজারে সবজিগুলো ভালো। আশেপাশের ধর্মসুর, শাহপুর, মোগারচর, কালিগাঙ্গের পাড়, পুরান সোনাকান্দা প্রভৃতি এলাকার কৃষকদের চাষ করা সবজি এগুলো। এখান থেকে সকালে কিনে নিয়ে খুচরা বিক্রেতারা জিঞ্জিরা, নয়াবাজার, রাইসাবাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন।
বাংলাদেশ সময়: ০৯৫০ ঘণ্টা, মে ১৩, ২০১৭
ইইউডি/জেডএস