হাসপাতালের ৪র্থ তলার ৪ নম্বর ওয়ার্ড অর্থাৎ মহিলা মেডিসিন বিভাগে (ইউনিট-১, ২, ৩, ৪) পুলিশ ও তদন্ত কমিটির যৌথ তল্লাশির পর ওই ওয়ার্ড থেকে বের হওয়া ওষুধ দেখে তিনি এ বিস্ময় প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ওয়ার্ডের ইনচার্জের কাছ থেকে ৮-১০টি আইটেমের যে পরিমাণ ওষুধ পাওয়া গেছে তা দিয়ে ৩/৪ মাস এ ওয়ার্ডের রোগীদের সেবা দেওয়া যেতো (ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ২শ’ মতো রোগী ভর্তি থাকেন)।
পাশাপাশি তার নিয়ন্ত্রণে নতুন বিছানার চাদরসহ বিভিন্ন মেডিকেল ইক্যুপমেন্ট রয়েছে, যা দেখেই প্রশাসনের সবাই হতবাক। পরিচালক বলেন, ব্যবহৃত ওষুধের বোতল জমা দিয়ে নতুনভাবে ওষুধ আনা হয়, সেক্ষেত্রে এতো ওষুধ এখানে কিভাবে আসলো তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তিনি জানান, হাসপাতালের নিয়মানুযায়ী ১ দিনের বেশি ওষুধ স্টোর থেকে আনা সম্ভব নয়। আর রোগীকে হাসপাতালে থাকা ওষুধের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
শুক্রবার শেবাচিম হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণী স্টাফ কোয়ার্টার কম্পাউন্ডের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকার সরকারি ওষুধ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। যে ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ওয়ার্ড ইনচার্জ বিলকিস বেগমকে পুলিশ আটক করেছে। তবে মামলা হওয়ার আগেই ওয়ার্ডের কর্মচারী শেফালি বেগম ও তার ছেলে মামুনকে আটক করে থানা পুলিশ।
হাসপাতালের পরিচালক বলেন, পুলিশ যেভাবে খতিয়ে দেখছে, আর আমরা যেভাবে তদন্ত করছি আশা করি মূল ঘটনা উৎপাটন করা সম্ভব হবে। আর পুলিশকে হাসপাতাল প্রশাসন সার্বিক সহায়তা করছে। পাশাপাশি পুরো হাসপাতালে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি ওষুধ মজুদের এ অভিযান চলমান থাকবে।
রোগী এসব ওষুধ আদৌ পায় কি-না প্রশ্নের উত্তরে পরিচালক বলেন, রোগী না পেলে অভিযোগ পেতাম।
তবে রোগীকে ওষুধ দেওয়াটা সম্পূর্ণ মন-মানসিকতার ব্যাপার বলে দাবি করেন হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. মো. আবদুল কাদির। তিনি বলেন, যেহেতু ওষুধ পেয়ে রোগী কোনো স্বাক্ষর দেন না সেক্ষেত্রে কাগজে কলমে সবকিছু ঠিক থাকলেও রোগীর ওষুধ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
সিনিয়র স্টাফ নার্সরা জানান, কিছু অসাধু ব্যক্তি তো রয়েছেন, তবে এতো বড় সাহস দেখাতে অনেক শক্তির প্রয়োজন রয়েছে। যেখানে শুধু সেবিকার একার দোষ দেওয়া ঠিক নয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখলে দেখা উচিত পরিচালক ও তদন্ত কমিটির।
হাসপাতালের নার্সিং তত্ত্বাবধায় মমতাজ বেগম জানান, তিনি যোগদানের পরই আটক সেবিকার বিরুদ্ধে কিছু মৌখিক অভিযোগ শুনেছেন। যিনি ২০১৪ সাল থেকে ওই ওয়ার্ডে রয়েছেন। তবে লিখিত অভিযোগ পাননি। আর শেফালি নামের ওই আয়াকে ওয়ার্ড থেকে সরানোর পরও সে কিভাবে এসেছে তা তার জানা নেই। যেহেতু হাসপাতাল প্রশাসন বিষয়টি দেখছে সেখানে নার্সিং প্রশাসন সহায়তা ছাড়া এ মুহূর্তে কিছুই করতে পারছে না।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৩৭ ঘণ্টা, মে ১৩, ২০১৭
এমএস/জেডএস