শনিবার (১৩ মে) দুপুরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মনন’এর সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পশ্চিম বাংলার নন্দিত তথ্যচিত্রকার অজয় রায়ের ‘দ্য টেলস্ অব তিস্তা: স্টোরি অব অ্যা ডায়িং রিভার’ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।
প্রদর্শনী শেষে নদী, নদীর জীবন, নদীবর্তী মানুষের জীবন, আন্তর্জাতিক নদী, নদী ও রাজনীতি বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে ভারতে ‘পর্যটন গান্ধী’ নামে সুপরিচিত সুপ্রতিম রাজ বসু বলেন, ‘সিকিম থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত আসার পথে তিস্তা নদীতে ২৯টি ব্যারেজ নির্মিত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ পর্যন্ত আসতে আসতে তিস্তা নদীটি মরে গেলো। আর সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার সিভিলাইজেশনও মরে গেছে’।
তিনি বলেন, ‘ইকো সিস্টেমকে রিপ্রেজেন্ট করে পানি। ইকো সিস্টেমের ভাষা হচ্ছে পানি। আর তিস্তা নদীতে ইকো সিস্টেমের ভাষা হাইড্রো সিস্টেমে রুপ লাভ করেছে। যে তিস্তা বাংলাদেশের ১৫ শতাংশ কৃষিকে রিপ্রেজেন্ট করে, ড্যাম নির্মাণের মাধ্যমে সে ক্ষতিটা বাংলাদেশকে বহন করতে হচ্ছে। স্বার্থবাদী মহলের কারণে তিস্তায় ডেভেলপমেন্টের বিপরীতে সাসটেইনিবিলিটিকে দাঁড় করানো হয়েছে’।
তিনি আরও বলেন, নদী বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। ড্যাম এলাকার মানুষ সাময়িক অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য তিস্তা নদীর সর্বনাশ নিয়ে কিছু বলেন না। কিন্তু তিস্তাকে বাঁচানোর জন্য বর্ডারকে বাদ দিয়ে, পলিটিক্যাল ব্যারিয়ারকে অতিক্রম করে সবাইকে এক সঙ্গে ভয়েজ রেস করতে হবে।
‘দ্য টেলস্ অব তিস্তা’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা অজয় রায় বলেন, ‘নদী হচ্ছে সভ্যতার ধারা। নদীর ওপর লাখ লাখ মানুষের জীবন নির্ভর করে। শুধু তিস্তা নয়, নদীমাতৃক দেশের সব নদীতেই বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। নদীগুলোকে এভাবে মেরে ফেলা হচ্ছে। অথচ রাজনৈতিক কারণে আমরা কিছুই বলছি না’।
তিনি বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের বহু পুরনো ইস্যু হচ্ছে তিস্তা। ন্যায্য হিসাবের বিষয়ে এবং তিস্তাকে বাঁচাতে সবাইকে একসঙ্গে স্লোগান তুলতে হবে। কারণ, তিস্তা বাঁচলেই মানুষ বাঁচবে’।
মননের সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সেলিম মোজহারের নির্দেশনায় সংলাপটি পরিচলনা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জুনায়েদ আহমেদ হালিম। সঞ্চালনা করেন মননের কার্যনির্বাহী সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুল হক।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৭ ঘণ্টা, মে ১৩, ২০১৭
ডিআর/এএটি/এএসআর