শনিবার (১৩ মে) দুপুরে জেলার সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, ৩০/৪০ গজ দূরে মা ও মেয়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, দুপুর ১২টার দিকে পারবর্তীপুর থেকে পঞ্চগড়গামী একটি লোকাল ট্রেন ওই স্টেশন অতিক্রম করার সময় বকুলতলা এলাকায় শ্যামলী প্রথমে তার দেড় বছর বয়সী শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ে মনি বসাককে ট্রেনের নিচে ফেলে দেয়। পরে সেখান থেকে ৩০/৪০ গজ সামনে গিয়ে নিজেও ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন।
নিহত শ্যামলী বসাক জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বার আউলিয়া এলাকার অরুন বসাকের মেয়ে। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা হাত ব্যাগে জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শ্যামলী বসাকের পরিচয় নিশ্চিত হন স্থানীয়রা।
নিহত শ্যামলী বসাকের বাবা অরুন বসাক বলেন, তিন বছর আগে পার্শ্ববর্তী জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া-ঘুরনগাছ এলাকার প্রদিপের সঙ্গে শ্যামলীর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পরেই সে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে চলে আসে এবং আমার বাড়িতেই ওই প্রতিবন্ধী মেয়ের জন্ম দেয়। পরে সে স্বামীর নামে আদালতে একটি মামলাও দায়ের করে।
শ্যামলী আমার বাড়ি ছাড়াও মাঝে মধ্যে তার নানার বাড়িতেও থাকত। শনিবার সকালে সে মেয়ে মনিকে নিয়ে পঞ্চগড় প্রতিবন্ধী পরিচর্যা কেন্দ্রে যাওয়ার কথা বলে তার নানা বাড়ি থেকে বের হয়। পরে বকুলতলা এলাকায় চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে খবর পেয়ে ছুটে আসি।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাবিউল হাসান সরকার ও পঞ্চগড় সদর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৫৪ ঘণ্টা, মে ১৩, ২০১৭
আরএ