ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৮ শাবান ১৪৪৬

জাতীয়

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, বিপত্তি পানিতে   

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৫৫ ঘণ্টা, মে ১৩, ২০১৭
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, বিপত্তি পানিতে    ফার্মগেটের পাবলিক টয়লেটে নেই পানি পানের পাত্র-ছবি-শাকিল আহমেদ

ঢাকা: কর্মচঞ্চল ঢাকায় প্রতিদিন জীবিকার সন্ধানে ছোটাছুটি লাখো মানুষের। এই ছুটে চলা নগরবাসীর সেবায় ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্মাণ কর‍া হয় আধুনিক ও  স্বাস্থ্যকর পাবলিক টয়লেট। ‘চিরায়ত’ ধারণা পাল্টে দেওয়া টয়লেটগুলোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে দশ মাস। ‘চিরায়ত’ ধারণা পাল্টে দিয়েই টয়লেটগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ নগরবাসীর মনে গেঁড়ে দিয়েছে ‘নব’ ধারণা। 

কেবল এক জায়গায় বিপত্তি। খা‍বার পানির ক্ষেত্রে।

আধুনিক এসব টয়লেটের ব্যবস্থাপনায় নিরাপদ পানি পানের ব্যবস্থা থাকলেও কোনো গ্লাস বা বোতল মিলছে না। সে কারণে কোনো তৃষ্ণার্ত পথচারী পানি পানের জন্য ঢুঁ মারলেও সন্তুষ্ট হয়ে ফিরতে ‍পারছেন না, হাত দিয়ে পানি পানের অতৃপ্তি নিয়েই তাকে ফিরতে হচ্ছে। যদিও খাওয়ার পানির কলগুলোর সামনে লেখা আছে, বোতল না থাকলে ১ টাকার বিনিময়ে ওয়ান টাইম গ্লাস নিয়ে পানি পান করুন।  

রাজধানীর পান্থকুঞ্জ, তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড ও ফার্মগেটের ‌ইন্দিরা রোডের আধুনিক পাবলিক টয়লেটগুলোতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।  

পাবলিক টয়লেট-ছবি-শাকিল আহমেদপানি পানে এই বিপত্তির কারণ জানতে চাইলে টয়লেটের কর্মচারীরা বলেন, ওয়ান টাইম গ্লাস সরবরাহ করা হয় পানি পানের জন্য। এ গ্লাস শেষ হলে নতুন আসতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে।  

তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ডের পাবলিক টয়লেটটিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন ৪০০ মানুষ ব্যবহার করে টয়লেটটি। এ টয়লেটটি বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। প্রতিদিন দুই শিফটে চারজন কর্মচারী টয়লেট পরিষ্কার রাখতে কাজ করেন। এখানে নগরবাসীর খাবার পানির চাহিদা পূরণ করতে পাঁচটি পানির কল বসানো  হয়েছে। তবে পানি পানের জন্য কোনো গ্লাস বা বোতলের ব্যবস্থা নেই।  

আনিতা নামে এক কর্মচারী বাংলানিউজকে বলেন, ১৫ দিন আগে ওয়ান টাইম গ্লাস শেষ হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা ওয়াটার এইড থেকে গ্লাস সরবরাহ করা হয়। এবার যে শেষ হলো, এখনও দিয়ে যায়নি তারা। হয়তো আজ-কালের মধ্যে দিয়ে যাবে।  

ফার্মগেটের ‌ইন্দিরা রোডের পাবলিক টয়লেটেও একই চিত্র। প্রতিদিন ৫০০ মানুষ ব্যবহার করে এই টয়লেটটি। প্রতিটি টয়লেটের মেঝে, গোসলখানা, কমোডসহ সবকিছুই ঝকঝকে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়েছে। এছাড়া স্যান্ডেলের ব্যবস্থা, টিস্যু পেপার, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পানি সরবরাহসহ সবকিছুই ঠিকঠাক বলে জানালেন ব্যবহারকারী কয়েকজন।  

পাবলিক টয়লেট-ছবি-শাকিল আহমেদতবে এখানেও পানি পান করতে বিপত্তিতে পড়তে হচ্ছে জনসাধারণকে। কারণ বিশুদ্ধ পানি থাকলেও নেই গ্লাস বা বোতলের ব্যবস্থা।  

আবু সায়েম নামে এক পথচারী বলেন, শুরু থেকে টয়লেটগুলো যেমন দেখেছি, তেমনই আছে। পাবলিক টয়লেটের নোংরা পরিবেশের কথা ভুলিয়ে দিয়েছে আমাদের। সব ঠিক থাকলেও পানি পান করার ব্যবস্থা রাখেনি-এটাই সমস্যা।  

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সূত্রে জানা যায়, ডিএনসিসির তত্ত্বাবধানে ওয়াটার এইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং এইচ অ্যান্ড এম ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে টয়লেটগুলো নির্মাণ করা হয়।  

গাবতলী, তেজগাঁও, নাবিস্কো, মহাখালী, কুড়িল, ফার্মগেট, মিরপুর চিড়িয়াখানা রোড, রামপুরা, মুক্তাঙ্গন পার্ক, বাহাদুর শাহ পার্ক, ওসমানী উদ্যানসহ দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় এমন ২০টি আধুনিক পাবলিক টয়লেট রয়েছে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৬ ঘণ্টা, মে ১৩,২০১৭
এমসি/এএটি/আরআর/এইচএ
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।